২৬ এপ্রিল, ২০২১ ২১:৩৯
হাওরাঞ্চলে সারা বছরের এক মাত্র সম্পদ এক ফসলি বোরো আবাদে বাম্পার ফলন হওয়ায় উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কৃষাণ কৃষাণীরা দিন রাত মাঠে ধান সিদ্ধ, মাড়াই আর শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।
তবে কষ্টার্জিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। কারণ প্রতি বছরেই চারা রোপণ থেকে কাটা, মাড়াই ও শুকানো পর্যন্ত যে পরিমাণ টাকা খরচ হয় সেই ধান বিক্রি করে লাভ কিছুই থাকে না।
তাহিরপুর উপজেলার বৃহৎ শনি হাওর, মাটিয়াইন হাওরসহ বিভিন্ন হাওর ঘুরে বোরোধান কাটা মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের আক্ষেপ আর দুশ্চিন্তার তথ্য। ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা সংশ্লিষ্ট বিভাগের।
সচেতন মহল বলেন, প্রতি বছরেই সুবিধাবাদী মহল একটি সুপরিকল্পিত ভাবে সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে কম মূল্যে ধান কিনে বেশী মূল্যে বাজারে বিক্রি করে। এতে করে দিনমজুর, স্বল্প আয়ের মানুষ ও চাকুরীজীবীরা পড়েন মহা বিপাকে। এই সিন্ডিকেটকে সমূলে উৎপাটন করে কৃষকদের সাথে সাথে সবাইকে রক্ষার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এখনেই প্রয়োজন।
উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মানিকখিলা গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম বলেন, এবার বোরো ধানের ফলন খুবই ভাল হয়েছে। এখন ব্যস্ত সবাই কাটা মাড়াই আর শুকানোর কাজে। এত কষ্ট করে এই উপার্জন কিন্তু সঠিক ম‚ল্য আমরা কৃষকরা পাই না। সরকারি ভাবে যদি কৃষকদের বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে ন্যাযমূল্য নির্ধারণ করা হয় তাহলে কৃষকরা বাঁচবে। না হলে আগামীতে কৃষকরা ধান উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হবে।
লামাগাও গ্রামের কৃষক মোরশেদুল হক, হোসেন মিয়াসহ অনেকের বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সপ্তাহের মধ্যেই হাওরের ফসল ঘরে উঠবে। কৃষিবান্ধব সরকার ধানের সন্তোষজনক ম‚ল্য নির্ধারণ করে কৃষকদের কষ্টের ফলানো সোনালী ধান আগামীতে আরও বেশি করে ফলাতে উৎসাহিত করবেন এমন প্রত্যাশা তাদের।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এ পর্যন্ত হাওরের প্রায় ৫০ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে দাবি সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের। পরিবেশ অনুক‚লে থাকলে সপ্তাহ খানেক সময়ের মধ্যে নিরাপদে ধান গোলায় উঠবে এমন আশাবাদ তাদের।
জানা যায়,তাহিরপুর উপজেলার শনি, মাটিয়ান হাওরসহ ছোট বড় ২৪টি হাওরেই শুরু হয়েছে ধান কাটা উৎসব। হাওরে ধান কাটতে শ্রমিক ছাড়াও কৃষিকাজের আধুনিকায়ন এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন হাওরে নেমেছে সরকারী ভর্তুকিতে দেয়া ১০টি ধান কাটার আধুনিক যন্ত্র কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন। যা ধান কাটতে কৃষকগন ব্যবহার করছেন।
এ বছর উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ১৭ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে বোরো-ইরি ধানের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৫ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান উদ দৌলা জানিয়েছেন, উপজেলার সবকটি হাওরে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। শ্রমিকদের পাশাপাশি আধুনিক মেশিন দিয়ে খুব দ্রুত ধান কাটার কাজ চলছে। আবহাওয়া ভাল থাকায় কৃষকদের মাঝে নিশ্চিন্তে ধান ঘরে তোলার আনন্দ দেখা দিয়েছে প্রতিদিন হাওরে ঘুরে এমনি চিত্র চোখে পড়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ বলেন, কৃষকদের উৎসাহ দিতে প্রতিদিনই হাওরে যাচ্ছি খোঁজ খবর নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার নির্দেশনা প্রদান করছি। আশা করছি সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই কৃষকের কষ্টার্জিত এক ফসলী বোরো ধান কাটার কাজ শেষ হয়ে যাবে।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফরিদুল হাসান বলেন, হাওরাঞ্চলে প্রায় অর্ধেক ধান কাটা হয়েছে। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে নিরাপদে ধান ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকরা।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, কৃষকরা ব্যস্ত কষ্টের ফলানো সোনালী ফসল ঘরে তুলতে। সেই কষ্টের ফসলের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করা খুবই প্রয়োজন। যাতে করে কৃষকরা লাভবান হয়। না হলে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। তা কোন ভাবেই হতে দেয়া যাবে না।
আপনার মন্তব্য