২৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:৩৯
সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকার যুবক রায়হান আহমদ হত্যাকাণ্ডের সাত মাস পেরোতে চলছে। এই দীর্ঘসময়েও চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দিতে পারেনি পুলিশ। অভিযোগপত্র প্রস্তুত হয়ে গেছে বলেও একমাস পার করে দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে রায়হানের পরিবারের মধ্যে।
সাতমাসে অভিযোগপত্র না হওয়ায় ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করছে রায়হানের পরিবারের। তবে, করোনা পরিস্থিতির কারণে সঠিক তদন্তের স্বার্থেই কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে জানিয়েছে পিবিআই। এমাসেই অভিযোগ পত্র দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে পিবিআই কর্মকর্তারা।
গত বছরের ১১ অক্টোবর মধ্যরাতে নগরের আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে ধরে আনে বন্দরবাজার ফাঁড়ির পুলিশ। নগরের কাষ্টঘর সুইপার কলোনি থেকে তাকে বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে যায় ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ও তার সহকারীরা। কয়েক ঘণ্টা চলে পাশবিক নির্যাতন। পরে ভোরে রায়হানের নিথর দেহ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করে পুলিশ।
এই হত্যাকাণ্ডের পর রায়হানকে নির্যাতনের সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবিতে সিলেটজুড়ে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। ১২ অক্টোবর রাতে হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন রায়হানের স্ত্রী।
প্রায় সাত মাস পেরোলেও রায়হান হত্যার অভিযোগপত্র প্রদান না করায় ক্ষুব্ধ রায়হানের মা সালমা বেগম। তিনি বলেন, পুলিশ অভিযুক্ত হওয়ায় অভিযোগপত্র দিতে অযথাই বিলম্ব করা হচ্ছে। এতে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়েই আমি শঙ্কিত।
রায়হানের চাচা মইনুল কুদ্দুস বলেন, সব তথ্য প্রমাণ পাওয়ার পরও এই মামলার অভিযোগপত্র না দেওয়া সন্দেহজনক। এতে মনে হচ্ছে পুলিশ কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে।
তবে পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, করোনার বিরূপ পরিস্থিতি ও নিখুঁত তদন্তের স্বার্থে কিছুটা সময়ক্ষেপণ হয়েছে। তবে, চলতি মাসেই অভিযোগপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলেন জানান এই কর্মকর্তা।
পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার খালেদ উজ জামান বলেন, অভিযোগপত্র প্রায় প্রস্তুত হয়ে গেছে। কিছু টেকনিক্যাল বিষয় ছিলো, আকবরের মোবাইলের তথ্য যাচাই বাছাই, দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য যাচাই বাছাই- এসব করতে সময় লাগছে। এছাড়া করোনার কারণেও দেরী হচ্ছে। তবে আশা করছি এ মাসের মধ্যে অভিযোগপত্র আদালতে প্রদান করতে পারবো।
তবে পিবিআইয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই মামলার তদন্তে রায়হানকে নির্যাতনের সাথে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ (বরখাস্ত) এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, বরখাস্ত হওয়া টুআইসি এসআই হাসান আলীসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। অভিযোগপত্রে তাদের আসামি করা হবে।
তবে রায়হান হত্যার পর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক পরিবর্তন ও প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে পালাতে সহায়তাকারী কথিত সাংবাদিক কোম্পানীগঞ্জের আবদুল্লাহ আল নোমানকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হবে কি-না তা এখনও নিশ্চিত করে জানা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রায়হান হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর বন্দরবাজার ফাঁড়ির ৬ পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত করে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই ৬ জন এখন কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন- বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, টুআইসি এসআই হাসান আলী, এএসআই আশেকে এলাহী, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, কনস্টেবল তৌহিদ মিয়া ও কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস।
প্রসঙ্গত, নগরীর আখালিয়ার নেহারীপাড়ার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে গত বছরের ১১ অক্টোবর দিবাগত রাতে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে যায় পুলিশের একটি দল। এরপর টাকার দাবিতে তাকের রাতভর ফাঁড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হান হাসপাতালে মারা যায়। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী বাদি হয়ে কোতোয়ালী থানায় হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা দায়ের করেন।
আপনার মন্তব্য