২৮ এপ্রিল, ২০২১ ১৮:১৩
গ্রীস্মকালীন ফল তরমুজ নিয়ে কদিন ধরেই চলছে তুলকালাম। চাষীদের কাছ থেকে কম দামে তরমুজ কিনে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি কেজি দরেও তরমুজ বিক্রি করছে একশ্রেণির ব্যবসায়ীরা।
সিলেটে সুপারশপ 'স্বপ্ন'ও এভাবে কেজি দরে বিক্রি করছিলো তরমুজ। তবে এতে বাঁধ সাধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বুধবার (২৮ এপ্রিাল) স্বপ্ন'র উপশহর শাখায় অভিযান চালিয়ে কেজি দরে ও অতিরিক্ত মূল্যে তরমুজ বিক্রির প্রমাণ পান ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা। পরে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক শ্যামল পুরকায়স্থের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন অধিপ্তরের সহকারি পরিচালক আমিরুল ইসলাম মাসুদ। এতে সহায়তা করে র্যাব-৯।
শ্যামল পুরকায়স্থ বলেন, স্বপ্নতে প্রতিকেজি তরমুজ ৬৮ টাকা ধরে বিক্রি করা হচ্ছিল। এ হিসেবে একটি বড় তরমুজের মূল্য পড়ে ৬০০ টাকা। অথচ তাদের ক্রয় রশিদ যাচাই করে দেখা যায়, আড়ৎ থেকে তারা পিস হিসেবে তরমুজ কিনে এনেছেন। এতে বড় সাইজের একটি তরমজের দাম পড়েছে ৩০০ টাকা। পিছ হিসেবে কিনে কেজি দরে ও দিগুণ লাভে বিক্রির দায়ে স্বপ্নকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
কৃষি বিপণন আইন অনুযায়ী, ফলের ক্ষেত্রে কেজিতে ১০ টাকা লাভ করতে পারবেন এমন বিধান রয়েছে। তবে তরমুজের ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা আছে। কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৫ টাকার বেশি লাভ করতে পারবেন না। আর কেজি বা পিস যেভাবে কিনবে সেভাবেই বেচতে হবে।
স্বপ্ন ছাড়াও নগরের কদমতলী ফলের আড়তে অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ফলের আড়তে মূল্য তালিকা না থাকা, অতিরিক্ত দামে তরমুজ বিক্রি, তরমুজের ক্রয় মূল্য ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকা এবং ক্রয় রশিদ সরবরাহ করতে না পারার অপরাধে ৪টি দোকানে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এরমধ্যে বীণা ফলের আড়ৎকে ২ হাজার, মোজাম্মেল ফলের আড়ৎকে ৪ হাজার, সুলতান এন্টারপ্রাইজকে ৪ হাজার এবং মেসার্স মা ফল ভান্ডারকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক শ্যামল পুরকায়স্থ বলেন, বাজার ও পণ্যের মান তদারকিতে আমাদের অভিযান অব্যাহতহ থাকবে। রমজান মাসে এ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
আপনার মন্তব্য