২৫ মে, ২০২১ ২০:৩৪
দীর্ঘ ৫৭ বছর সরকারি বন্দোবস্ত জমির দখল পেলেন বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের একমাত্র পুত্র শাহ নূর জালাল বাবুল।
মঙ্গলবার (২৫ মে) বিকেলে উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের জালালপুর মৌজার জেএলনং ১৩৪, খতিয়ান ১০১, দাগ নং ২৫৩ এর ২ একর ১১ শতাংশ বন্দোবস্ত ভূমির দখল সরজমিনে প্রশাসনের কাজ থেকে বুঝে নেন বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের পুত্র শাহ নূর জালাল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান মামুন, দিরাই পৌরসভার মেয়র বিশ্বজিৎ রায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সুহেল আহমেদ, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শরীফুল আলম, দিরাই সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর ইকবাল, দিরাই প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সর্দার, তাড়ল গ্রামের সালিশ ব্যক্তিত্ব খলিল চৌধুরী প্রমুখ।
এ ব্যাপারে বাউল সম্রাট পুত্র শাহ নুর জালাল বাবুল বলেন, ৫৭ বছর আগে জালাল পুর মৌজার ২ একর ১১শতক খাস জমি সরকার আমার বাবার নামে বন্দোবস্ত দেন। দীর্ঘদিন আমাদের জমিটি প্রভাবশালীদের দখল ছিল, আমরা অনেক চেষ্টা করে ও বাবার জীবদ্দশায় দখল আনতে পারিনি। বহুদিন পরে হলেও আজ উপজেলা প্রশাসন জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক, সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের উপস্থিতিতে আমাদের জমির দখল এনে দিয়েছেন। এজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান মামুন, দিরাই পৌরসভার মেয়র বিশ্ব জিৎ রায়সহ সকলকে আমার পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান মামুন বলেন, বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম শুধু দিরাইবাসীর নয় তিনি হলেন বাংলাদেশের গৌরব। চির কিংবদন্তি বাউল সম্রাট আজীবন দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে গেছেন। নির্লোভ, নিরহংকার একজন সাদা মনের মানুষ হিসেবে তিনি সবার কাছে চির অম্লান। তার কীর্তির মূল্যায়ন করেই সরকার তাকে খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়েছিলেন। বর্তমানে রেকর্ডে তার নাম রয়েছে। আজ বাউল সম্রাটের একমাত্র উত্তরাধিকারী, বাউল পুত্র শাহ নুর জালালকে বন্দোবস্তের জমিটি বুঝিয়ে দিতে পেরেছি বলে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমি আশাবাদী এলাকার সর্বস্তরের জনগণ বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে কাজ করে যাবেন।
পৌর মেয়র বিশ্বজিৎ রায় বলেন, বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম আমাদের ভাটি অঞ্চলের অহংকার। তিনি সারা বিশ্বে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। বাউল গানের সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের পরিবারকে সহায়তা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আজ বন্দোবস্তের জমি তার উত্তরসূরির কাছে বুঝিয়ে দিতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে । আমি প্রশাসনসহ সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি ।
আপনার মন্তব্য