নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ মে, ২০২১ ১৮:০৭

ফের নাকচ ঝুমনের জামিন আবেদন

হেফাজত নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করে কারাবন্দি সুনামগঞ্জের শাল্লার ঝুমন দাস আপনের জামিন দেননি জেলা জজ আদালত।

বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের জেলা জজ ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

এ তথ্য জানিয়েছেন ঝুমন দাশের আইনজীবী দেবাংশু শেখর দাস। তিনি বলেন, গত ১৬ মে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদনের শুনানি হয়। কিন্তু ওইদিন আদালত কোনো আদেশ দেননি। আজ জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

তিনি বলেন, এখন ঝুমনের পরিবার উচ্চ আদালতের শরনাপন্ন হবে। উচ্চ আদালতে তারা জামিন আবেরদন করবে।

এই আইজীবী জানান,  জজ আদালতে আসার আগে সুনামগঞ্জের নিম্ন আদালতে ঝুমনের জামিন আবেদন করা হয়েছিলো। সেখানেও আবেদন নাকচ হয়।

গত ১৬ মার্চ এমামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন শাল্লার নোয়াগাঁওয়ের যুবক ঝুমন দাস আপন। স্ট্যাটাসে তিনি মামুনুলের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ আনেন।

এরপর এই স্ট্যাটাস নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। হেফাজত ও মামুনুল অনুসারীরা ঝুমনের স্ট্যাটাসকে ইসলামবিরোধী আখ্যা দিয়ে প্রচারণা চালায়। উত্তেজনা আঁচ করতে পেরে ওই রাতেই ঝুমনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন নোয়াগাও গ্রামবাসী।

পরদিন ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সকালে কয়েক হাজার লোক সশস্ত্র মিছিল নিয়ে এসে ঝুমনের গ্রাম নোয়াগাওয়ে তান্ডব চালায়। তারা ভাংচুর ও লুটপাট করে গ্রামের প্রায় ৯০ টি হিন্দু বাড়ি।

এদিকে ঝুমনকে আটকের পর প্রথমে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এরপর শাল্লা থানার এক উপ পরিদর্শক বাদী হয়ে ঝুমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।

সেই মামলায় প্রায় আড়াই মাস ধরে কারাগারে আছেন এই যুবক।

ঝুমন দাসের মা নিভা রানী দাস বলেন, ‘আদালতে একাধিকবার আবেদন করেও আমার ছেলের জামিন মিলছে না। এখন কি করবো বুঝতে পারছি না। আইনজীবীর সাথে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত