০২ জানুয়ারি, ২০২২ ২২:০৬
শিবিরের দায়িত্বশীল পদে থাকার অভিযোগ সত্বেও নৌকা প্রতীক নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ইকবাল হোসেন ইমাদ। তবে চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নেওয়ার পাঁচদিন পরই আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতাকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইমাদের বিরুদ্ধে।
হামলায় আহত দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এখলাছ আলী সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে রোববার বিকেলে বাড়ি ফিরেছেন। তার মাথায় আটটি সেলাই লেগেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শনিবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বর্ণি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ অনুষ্ঠানে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে রোববার বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম নজরুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন ইমাদ বলেন, কাল একটু ঝামেলা হইছে। ওই ব্যক্তি (এখলাস) আমাকে কটাক্ষ করে অনেক কথা বলছিলেন। তখন আমার সমর্থক কয়েকজনের সাথে তার হাতাহাতি হয়। তবে আমি কোনো হামলা বা মারধর করিনি।
জানা যায়, শনিবার সকালে উপজেলার বর্ণি উচ্চ বিদ্যালয়ে বই বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমদ, ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন ইমাদ ও আওয়ামী লীগ নেতা এখলাছ আলী।
গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন এখলাস আলী। চেয়ারম্যান পদে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় ইমাদকে। যিনি উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে গত ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন ইমাদ।
বই বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, গত নির্বাচন নিয়েই ইমাদ ও এখলাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। গত নির্বাচনে ইকবালকে এখলাস সমর্থন করেননি এই অভিযোগ এনে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে দুজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এসময় ইকবাল ও তার এক সহযোগি এখলাসের মাথায় আঘাত করেন।
সোমবার বিকেলে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর এখলাস আলী অভিযোগ করে বলেন, সে শিবির করতো। তাকে যখন আওয়ামী লীগের কমিটিতে পদ দেওয়া হয় তখন থেকেই আমি প্রতিবাদ করে আসছি। গত নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আমিও দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। তবে দল থেকে তাকে প্রার্থী দেওয়া হয়। সাবেক শিবির নেতাকে নৌকা প্রতীক দেওয়ায় সে সময় প্রতিবাদ করেছিলাম। একারণে সে আমার উপর ক্ষুব্দ ছিলো।
এখলাস বলেন, বই বিতরণ অনুষ্ঠানে গিয়ে গিয়ে ইমাদ বর্ণি গ্রামের লোকজনের উদ্দেশে ইউনিয়ন নির্বাচনে তাকে ভোট না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিতে শুরু করেন। এসময় আমি প্রতিবাদ করলে আমার দিকে সে তেড়ে আসে। এরপর ইমাদ একটি তালা দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করেন।
এখলাস বলেন, তৎক্ষণাৎ এলাকাবাসী আমাকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি।
উল্লেখ্য, চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে গত ১১ নভেম্বর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নে ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন ইমাদ।
দ্বিতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচনে সিলেটের ইউনিয়নগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরপরই ইমাদকে নিয়ে ব্যাপাক আলোচনা-সমালোচনা হয়। ইমাদ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
গত ১৪ অক্টোবর সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করে ইমাদের শিবির সম্পৃক্ততার স্বপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করেন দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। তবে ইমাদ সবসময়ই বলে আসছেন নামের মিলের কারণে তাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। ইকবাল হোসেন এমাদ নামে আরেকজন শিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তবে তিনি কখনো শিবির করেননি।
আপনার মন্তব্য