বিশ্বনাথ প্রতিনিধি

১৪ মে, ২০২২ ২২:১১

বিশ্বনাথে কৃষক নুরুল হত্যায় ১৮ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

সিলেটের বিশ্বনাথে কৃষক নুরুল ইসলাম (৪৮) হত্যাকাণ্ডের ১৮ দিনেও কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার বাদী শফিক আলী (৫০) ও তার পরিবারের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বেশ উঠেপড়ে লেগেছে। আসামিরা এলাকায় ঘোরাফেরা করলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করছে না।

নিহত কৃষক নুরুল ইসলাম উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের বশিরপুর (পাঠানগাঁও) গ্রামের মৃত জহুর আলীর ছেলে।

গত ২২ এপ্রিল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর পাঠানগাঁও ও তালুকজগৎ জামে মসজিদে তার চাচাতো ভাই শফিক আলীর (৫০) ২০০ টাকা দান করা নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন নুরুল ইসলাম। এর ৬ দিনের মাথায় গত ২৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কৃষকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরদিন ২৩ এপ্রিল বিশ্বনাথ থানায় শফিক আলীর দায়ের করা মারামারি মামলার প্রধান আসামি কবির হোসেন সরকারকে (৫০) গ্রেপ্তার করা হলেও কৃষক নুরুল ইসলামের মৃত্যুর প্রায় ১৮ দিন পার হলেও আর কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২২ দিন আগে গত ২২ এপ্রিল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর পাঠানগাঁও ও তালুকজগৎ জামে মসজিদে পঞ্চায়েত কমিটির পূর্বনির্ধারিত এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পাঠানগাঁও গ্রামের শফিক আলী (৫০) মসজিদের উন্নয়ন কাজে ২০০ টাকা দান করেন। এই দান করা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন তার প্রতিপক্ষ একই গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন সরকার (৫০)। এ নিয়ে শফিক আলী ও কবির হোসেন সরকারের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এসময় সংঘর্ষ এড়াতে পঞ্চায়েতের লোকজন শফিক আলী ও তার লোকজনকে মসজিদে আটকে রাখেন এবং কবির হোসেন সরকার পক্ষকে মসজিদ থেকে বিদায় দিয়ে দেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মসজিদ থেকে শফিক আলী পক্ষ বাড়ির পথে রওয়ানা দেন। এসময় বাড়ির সম্মুখের রাস্তায় যাওয়া মাত্রই প্রতিপক্ষের কবির হোসেন সরকার তার চাচাতো ভাই ইলিয়াছ আলী (৪২) ও মোবারক আলীসহ (৪৭) আরও ১৫/১৬ জন শফিক আলী পক্ষের উপর অতর্কিত হামলা চালান।

এতে গুরুতর আহত হন শফিক আলী (৫০), তার চাচাতো ভাই নুরুল ইসলাম (৪৮), আপন ভাই ফিরোজ আহমদ (৪৫), আছমত আলী (৩৮), ফরিদ আলী (৪০), ভাতিজা আয়না মিয়া (৩৩), আখতার হোসেন (২৭), নাতি লিটন মিয়া (২২)। ওইদিন রাতে তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পরদিন ২৩ এপ্রিল শনিবার শফিক আলী বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় কবির হোসেন সরকারকে প্রধান আসামিসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন, (মামলা নং ১৫)। মামলার পর ওইদিন বিকেলে কবির হোসেন সরকারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায়। কিন্তু এর ৫ দিন পর গত ২৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শফিক আলীর চাচাতো ভাই আহত কৃষক নুরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। নুরুল ইসলামের মৃত্যুর প্রায় ১৮ দিন পার হলেও আর কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

বিশ্বনাথ থানার ওসি গাজী আতাউর রহমান বলেন, প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঈদের ছুটির কারণে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে, আহত কৃষক মারা যাবার পর ৩০২ ধারা সংযুক্তির জন্যে আদালতে আবেদন করা হয়েছে এবং শিগ্রই বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত