১৯ জুলাই, ২০২৬ ০০:৪৪
সিলেটে পুলিশের গুলিতে নিহত তরুণ সাংবাদিক, দৈনিক নয়া দিগন্ত ও দৈনিক জালালাবাদের তৎকালীন রিপোর্টার এটিএম তুরাবের স্মৃতি রক্ষার্থে সিলেট প্রেসক্লাব প্রবর্তিত সাংবাদিক এটিএম তুরাব স্মৃতি পদকে এ বছর ভূষিত হয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও দৈনিক নয়া দিগন্তের সিলেট ব্যুরো চিফ আবদুল কাদের তাপাদার।
শনিবার বিকেলে সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পদক ও সম্মাণনার অর্থ পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিকের হাতে তিনি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট -৬ আসনের সংসদ সদস্য আ্যডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসাইন চৌধুরী ও সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক( সার্বিক) সাঈদা পারভীন।
এসময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ এটিএম তুরাব আমাদের সকলের প্রেরণার উৎস। এ হত্যার সাথে জড়িত সকলকে বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তুরাব হত্যার বিষয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধীদলকে সোচ্চার হবার পরামর্শ দেন তিনি।
পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত সাংবাদিক এটিএম তুরাবের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকীতে এসময় আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়।
এসময় অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন এটিএম তুরাব পদকপ্রাপ্ত দৈনিক নয়া দিগন্তের ব্যুরো প্রধান আবদুল কাদের তাপাদার। তিনি বলেন, সিলেটের সাংবাদিকতার ইতিহাসে তুরাব হত্যার ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক আখ্যায়িত করে বলেন , যুদ্ধের ময়দানেও প্রেস জ্যাকেট এপ্রোন ব্যবহার সাংবাদিকদের হত্যা করা হয় না।অথচ সেদিন প্রেস জ্যাকেট গায়ে থাকা অবস্থায়ও তাঁকে টার্গেট কিলিং করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আরো বলেন, জুলাই আন্দোলনে দেড় হাজার মানুষের রক্তের বিনিময়ে আমরা এ জায়গায় এসেছি। শহীদ তুরাবের রক্ত সিলেটের মাটিতে ঝরেছে। তুরাব হত্যার বিচার বিলম্বিত হবার বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, এ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে তিনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলবেন। যাতে তুরাবসহ এ ধরনের জঘন্য হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতরা দ্রুত গ্রেফতার হয় এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তি হয়।
সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালার বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে তুরাব শহীদ হয়েছেন। গত ১৫ বছর অপতথ্যের মাধ্যমে দেশকে তথ্য সন্ত্রাসে পরিণত করা হয়েছিল। বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দাফন হয়ে গেছে। বিগত নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে মিডিয়া স্বাধীনভাবে তার কার্যক্রম চালাচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কলম ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভেদাভেদ থাকতে পারে। কিন্তু দেশের ব্যাপারে আমাদের সকলকে এক থাকতে হবে। দেশপ্রেমের চেতনা নিয়ে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।
এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, তুরাবের লাশ ছিনিয়ে নেয়ার অপচেষ্টার স্বাক্ষী আমরা। মামলায় আমাদের লোকজনকেও আসামি করা হয়। এটা হচ্ছে নির্মম বাস্তবতা। জুলাই বিপ্লবে তুরাব ও গোলাপগঞ্জের ৭ জন নিরীহ মানুষকে হত্যার অগ্রগতি নিয়ে তিনি সম্প্রতি চিফ প্রসিকিউটরের সাথে আলোচনা করেছেন। এ হত্যাকান্ডের বিলম্বে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা প্রতিশোধপরায়ণ হতে চাই না। এ হত্যার বিচারের মধ্য দিয়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে-এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদী (কয়েস লোদী) তুরাব হত্যার বিচার কার্যক্রম তুরাব হত্যাকান্ডের তদন্ত প্রক্রিয়া সাগর রুনি হত্যাকান্ডের মতো হয়ে যায় কিনা-এই আশংকা ব্যক্ত করেন। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত পুলিশ অফিসাররা গ্রেফতার না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিবাদ নয়, ফাঁসির দাবি নিয়ে আমরা দাঁড়িয়েছি’।
মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম বলেন, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তুরাব জীবন দিয়েছেন। এ মামলার তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেছেন এ সরকার কোন অন্যায়কে ছাড় দেবে না।
আপনার মন্তব্য