২১ মে, ২০২৩ ২২:০৫
৫ মে সংবাদ সম্মেলন করে সিলেট সিটিতে প্রার্থী বাছাইয়ে জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেন মাহবুব
মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ তোলায় জাতীয় পার্টি থেকে দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য মাহবুবুর রহমান চৌধুরীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে’ তাঁকে জাপা চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের স্বাক্ষরিত আদেশে বহিষ্কার করা হয়।
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুলের বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহের অভিযোগ তুলেন মাহবুবুর রহমান চৌধুরী। গত ৫ মে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ অভিযোগের পাশাপাশি তার দলের হাইকমান্ডের বিরুদ্ধে মনোনয়ন-বাণিজ্যেরও অভিযোগ আনেন।
মাহবুবুর রহমান সিলেটে সিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে গত ৪ মে সিলেটের শিল্পপতি মো. নজরুল ইসলাম বাবুলকে দলীয় মনোনয়ন দেয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাপা। বাবুল সিলেট মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। কিন্তু এ মনোনয়ন দেওয়াকে অবৈধ দাবি করে পরদিন সংবাদ সম্মেলন করে মাহবুবুর রহমান বলেন- 'এবার সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে। প্রায় কোটি টাকার বিনিময়ে আমার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে জাতীয় পার্টির টিকিট।’
তার অভিযোগ, সিলেট মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক ও সাবেক সিলেট মহানগর তাঁতীদলের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল প্রায় কোটি টাকা ব্যয় করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে লাঙ্গলের মনোনয়নপত্র কিনে এনেছেন। কালো টাকার এই মালিকের কাছে দলের একজন নিবেদিত প্রাণ কর্মী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন চেয়েও ব্যর্থ হলাম। আমার সঙ্গে যে অন্যায়, অবিচার করা হয়েছে সিলেটবাসী এর বিচার করবে বলে আমার বিশ্বাস।’
জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পাওয়া বাবুলের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ করে মাহবুবুর রহমান বলেন, মাহবুবুর রহমান বরেন, ‘নানা ঘটনায় বিতর্কিত বাবুল ইতোপূর্বে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৯নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হলেও বিপুল ভোটে পরাজিত হন। দলের চেয়ারম্যান এমন একজন মানুষের কাধে লাঙ্গল তুলে দিয়ে এরশাদের দ্বিতীয় দূর্গ সিলেটের নেতাকর্মীদের শুধু অবজ্ঞাই করেননি, অপমানিতও করেছেন। বিএনপি থেকে আগত নজরুল ইসলাম বাবুলকে যখন মহানগর আহবায়ক করা হয় তখন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা এর তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন। এমনকি বাবুলকে আহবায়ক করে গঠিত কমিটি বিলুপ্ত করারও দাবি জানানো হয়। কিন্তু দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের সিলেটের নেতাকর্মীদের সেই দাবি না শোনে সেই বাবুলকে এখন লাঙ্গল প্রতিকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে উল্টো পুরস্কৃত করেছেন। এতে সিলেটে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের ভেতরে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।’
সেদিন তিনি সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানান এবং এ বিষয়ে দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার কাছে বিচারও দেন।
এই অভিযোগ এনে দল থেকে বহিষ্কার হলেন মাহবুব।
রবিবার (২১ মে) জাপা চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশে বলা হয়- ‘গত ৫ মে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অপরাধে পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু এমপি কর্তৃক কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য মাহবুবুর রহমান চৌধুরীকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে পার্টির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পদ-পদবী থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।’
আপনার মন্তব্য