নিজস্ব প্রতিবেদক

৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ২৩:৩৫

সিলেটে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনো ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা

নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এখনো গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচারণামূলক ব্যানার ঝুলছে সিলেটের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে। সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়, সিলেট সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে এখনো ঝুলছে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো একাধিক ব্যানার টানানো দেখা গেছে।

শনিবার দুপুরে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, কার্যালয়ের ভবনের উপর ঝুলানো রয়েছে একাধিক ব্যানার, যেগুলোতে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এরকম একটি ব্যানারে লেখা রয়েছে 'গণভোট ২০২৬, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, দেশের চাবি আপনার হাতে, পরিবর্তনের জন্য ''হ্যাঁ'', বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, সিলেট'।

আরেকটি ব্যানারে হ্যাঁ বিজয়ী হলে কি কি পরিবর্তন আসবে তার উল্লেখ করে লেখা রয়েছে- ‘‘হ্যাঁ’’ ভোট দিলে উপরের সবকিছু পাবেন, ‘‘না’’ ভোট দিলেই কিছুই পাবেন না। মনে রাখবেন পরিবর্তনের চাবি এবার আপনা্র হাতে।’

শুক্রবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়েও এই দুটি ব্যানার ঝুলে থাকতে দেখা যায়। তবে শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে প্রথম ব্যানারটি আর দেখা যায়নি। তবে ‘‘হ্যাঁ’’ ভোট দিলে উপরের সবকিছু পাবেন, ‘‘না’’ ভোট দিলেই কিছুই পাবেন না। মনে রাখবেন পরিবর্তনের চাবি এবার আপনা্র হাতে।’ এই ব্যানারটি শনিবারও ঝুলে থাকতে দেখা গেছে।

আর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভেতরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পৃথক ভবনে শনিবারও দুটি ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে। এছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সরকারী অফিস ও বিভিন্ন সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচারণামূলক এই দুটি ব্যানারই টানানো অবস্থায় দেখা গেছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভোটে এরকম একটি পক্ষ নেওয়া উচিত নয় জানিয়ে সচেতন নাগরিক কমিটি সিলেটের সভাপতি ও সিলেট জেলা মহিলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সৈয়দা শিরিন আক্তার বলেন, সরকারর এভাবে পক্ষ নেওয়া উচিত হয়নি। শুরু থেকেই তাদের নিরপেক্ষ থাকা দরকার ছিলো। সরকারী কর্মকর্তারা গণভোট নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে প্রচার চালাতে পারে। তবে হ্যাঁ বা না- এর কোন একটি পক্ষ নিতে পারে না।

তিনি বলেন, এটা নিয়ে শুরু থেকেই অনেকে আপত্তি তুলছেন, কিন্তু সরকার শুনেনি। অবশেষে নির্বাচন কমিশন বলছে এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

শিরিন আক্তার বলেন, সিলেটের সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচারণামূলক ব্যানার আগে টানানো হয়েছিলো বোধহয়। তবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার পর এগুলো সরিয়ে নেওয়া উচিত ছিলো।

এ ব্যাপারে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা উন নবী ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহার কাছে শনিবার দুপুরে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে বলেন, আমি এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে আপনাকে পরে জানাচ্ছি। পরে তিনিও আর কল রিসিভ করেননি।

এরআগে গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে বলা হয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোট বিষয়ে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন। তবে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে বা ‘না’–এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে কোনোভাবে আহ্বান জানাতে পারবেন না।

বৃহস্পতিবার সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দেওয়া চিঠিতে ইসি আরও বলেছে, এ ধরনের কার্যক্রম গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে, যা গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২–এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এ বিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত