২৬ মার্চ, ২০২৬ ২১:৪৭
ছবি: সিলেটটুডে
সনাতন ধর্মালম্বীদের বিস্বাসমতে সতী দেবীর একান্ন শক্তিপীঠের অন্যতম পীঠস্থান সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জৈনপুরের শ্রী শ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠ। এই মহাপীঠে ধর্মীর ভাবগাম্ভীর্যতা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় উৎসবমুখর পরিবেশে তিন ব্যাপী বাসন্তী পূজা উদযাপিত হচ্ছে।
গতকাল ২৫ মার্চ বুধবার থেকে আরম্ব হয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনু্ষ্টানের মধ্য দিয়ে ২৭ মার্চ শুক্রবার পর্যন্ত এটি স্থায়ী হবে ।
অনুষ্ঠিত এ পূজায় সিলেট সহ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভক্তরা অংশগ্রহন করেছেন। সনাতন ধর্মীয় আচার অনুযায়ী ভক্তদের আরাধনা, ভক্তি ও স্তুতি-আরতিতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও এ পীঠস্থানে উৎসবমূখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
পবিত্র এই মহাপীঠে তিনদিনব্যাপী পূজা আয়োজনে আগত ভক্তরা জানিয়েছেন, দূর্গা দেবীর বাসন্তী রূপের এ পূজোতে অংশগ্রহন করে সকলে নিজেদের বিস্বাস অনুযায়ী ইহজীবন ও পরজীবনের মঙ্গল কমনার পাশাপাশি দেবীর নিকট বিশ্ব কল্যানের প্রার্থনা নিবেদন করছেন ।
আয়োজক কমিটি পদত্ত তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, পূজার প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে থাকবে পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, চণ্ডীপাঠ, ভোগরাগ ও প্রসাদ বিতরণ। পূজার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আয়োজনও থাকছে। পূজো মান্ডবের পাশে বসেছে হরেক রকম পণ্য-সামগ্রীর মেলাও। মেলায় ভিড় করছেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা।
বিশেষ করে অষ্টমী ও নবমী তিথিতে ধর্মসভা, মাতৃসঙ্গীত, গীতিনৃত্য ও কীর্তনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে এক অনন্য পরিবেশের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
পূজার সঙ্গীত অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শিল্পীরা ধর্মীয় ও অধ্যাত্বিক সঙ্গীত পরিবেশন করছেন। এছাড়া প্রতিদিন ভক্তদের জন্য ফলমূল,অন্য-প্রসাদ, পায়েশ সহ বিভিন্ন পদের মহাপ্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, এই পূজা শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সনাতন ধর্মালম্বীদের নিজেজের ধর্মীয় বিস্বাস অনুযায়ী ভক্তদের মিলনমেলা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য অনুষ্ঠান।
এই পূজাকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
পূজা সফলভাবে সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যাক্ত করে আয়োজক কমিটির সভাপতি শিবব্রত ভৌমিক চন্দন বলেছেন, সতী দেবীর এই পীঠস্থান ভারত, পাকিস্থান ও বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা ৫১ টি পীঠস্থানের মধ্যে অন্যতম। এখানে সতী দেবীর কাঁধ বা গ্রীবাংশ ভূপতিত হয়েছিলো। তাই এই স্থান সনাতন ধর্মালম্বীদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি পীঠস্থান। আমরা প্রতিবছরের ন্যায় এবারো দেবী দূর্গার বাসন্তী রূপের পূজার আয়োজন করেছি।
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনার্দন চক্রবর্তী মিন্টু বলেছেন, 'বিশ্ব-কল্যানকল্পে বছরের বিভিন্ন সময়ে এই তীর্থস্থানে সনাতন ধর্মালম্বীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে দূর্গা পূজা , শিবচতুর্দশী, কালভৈরব পূজা ও বাসন্তী পূজা অন্যতম। সনাতন ধর্মালম্বীদের পীঠ স্থান হওয়ায় এখানে ভক্তগনের উপস্থিতি সিলেটের অনান্য মন্দিরের তুলনায় একটু বেশী হয়ে থাকে। আমরা আশাবাদী তিন দিন ব্যাপী এই আয়োজন সুন্দর ভাবে সম্পন্ন হবে। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।’
সকলের উদ্দেশ্যে কোষাধ্যক্ষ রাজীব কর বলেন, ‘সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতায় আমাদের এ বছরের পূজো সাফলভাবে সম্পন্ন করার আহবান জানাই।’
আপনার মন্তব্য