২৬ মার্চ, ২০২৬ ০৭:৩৮
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।
বুধবার (২৫ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
বার্তায় তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ পরিবার, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সেই সব দেশের প্রতি যারা আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থন দিয়েছেন—তাদের প্রতি রইল আমার গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
তিনি আরও বলেন, মহান স্বাধীনতা আমাদের জাতীয় জীবনে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। এক সময় আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের সামনে অসীম অনুপ্রেরণার উৎস ছিল। একাত্তরের গৌরবোজ্জ্বল উত্তাল দিনগুলো এখনো আমাদের অত্যাচারীর নির্মমতার বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রামে সাহস যোগায়। একাত্তর আমাদের নিজ অধিকারের প্রশ্নে আপসহীন হতে শেখায়। মহান মুক্তিযুদ্ধ সকল বৈষম্য থেকে মুক্ত হয়ে সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে অনুপ্রেরণা যোগায়।
জিএম কাদের বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে মুক্তির যে সংগ্রাম বাঙালি জাতি দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে এসেছে, তা একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। পরবর্তীতে স্বাধীনতা লাভ করলেও দীর্ঘদিন বৈষম্য থেকে মুক্তি পায়নি বাঙালি জাতি। আমাদের নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাঠামোতে সংস্কার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবদান রেখে গেছেন। তিনি উপজেলা পদ্ধতি প্রচলনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় অর্থাৎ উপজেলা থেকে প্রতিটি প্রশাসনিক স্তরে সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধীনস্থ করেছিলেন। যার ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা সরাসরি জনগণের হাতে ন্যস্ত হয়েছিল।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রশাসন শুধু বিকেন্দ্রীকরণ হয়নি, ‘শাসন নয় সেবার জন্য প্রশাসন’ বাস্তবায়িত হয়েছিল। এ পদক্ষেপ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ছিল। উপজেলাকে ‘উৎপাদন কেন্দ্র’ হিসেবে সৃষ্টি করে এখানে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি করা হয়েছিল। গ্রাম থেকে উপজেলা, সেখান থেকে জেলা, বিভাগ ও রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টি করেছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সে সময় সারা দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল। তিনি উপজেলা কোর্ট চালু করেছিলেন। গ্রাম ও শহরের বৈষম্য কমে এসেছিল।
জিএম কাদের বলেন, তাছাড়া হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হাইকোর্টকে বিকেন্দ্রীকরণ করেছিলেন। ওষুধনীতি প্রচলন করেছিলেন; কর্মমুখী শিক্ষানীতি, স্বাস্থ্যনীতিসহ অনেক জনকল্যাণমূলক নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি বৈষম্যহীন, ন্যায়বিচারভিত্তিক সমৃদ্ধশালী সমাজ গঠন—যা ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা—তা বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে তার অসামান্য অবদানের কথা আজও দেশের মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। আজ এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ দেশের সব মুক্তিযোদ্ধা, পাশাপাশি জিএম কাদের জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকেও পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
জি এম কাদের বলেন, নতুন প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বন্ধ করা। সে জন্য এ মুহূর্তে জরুরি ‘জাতীয় ঐক্য’। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার, জুলাই আন্দোলনের ফসল ঐক্যবদ্ধ জাতিকে অল্প কিছু মানুষের ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠী স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে দ্বিধাবিভক্ত করেছেন। পারস্পরিক ঘৃণা, বিদ্বেষ ও হানাহানির রাজনীতির সৃষ্টি করে গেছেন। এ অবস্থায় হঠাৎ করে আমেরিকা-ইসরাইল যৌথভাবে ইরান আক্রমণ এবং সারা বিশ্বে জ্বালানি সংকট ও বাণিজ্যিক মন্দা বাংলাদেশের জন্য অপরিসীম সমস্যা সৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি করেছে। ঐক্যবদ্ধ জাতিই কেবল এ সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম হবে।
সবাইকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সকল ভেদাভেদ ভুলে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার পথ পরিহার করে আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। সরকারকে সহযোগিতা করি, যাতে তাদের জন্য আগামী দিনের সমস্যা সমাধান সহজতর হয়। তবে বলা প্রয়োজন, এ কাজে সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ ফলপ্রসূ হবে, যদি সরকার আন্তরিকভাবে সেটা কামনা করে।
আপনার মন্তব্য