২৬ মার্চ, ২০২৬ ২৩:০০
ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে এক গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উঠে এসেছে বিস্ময়কর অভিযোগ। স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়া চোর আলাল মিয়ার মোবাইল ঘেঁটে পাওয়া গেছে পুলিশের এক কর্মকর্তার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণ, যা এখন জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ওই কর্মকর্তার নাম মাসুদ।
বুধবার (২৫ মার্চ) দিনগত গভীর রাতে দশানি গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়ার খামার থেকে একটি গরু চুরি হয়। পরদিন স্থানীয়দের সহায়তায় মানিক মিয়া নিজেই চোরের বাড়ি থেকে তার গরুটি উদ্ধার করেন। এসময় আলাল মিয়াকেও আটক করা হয়, যা ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
আটকের পর আলাল মিয়ার মোবাইল ফোনে ইমো অ্যাপের ভয়েস মেসেজ, চ্যাট ও কল রেকর্ডে উঠে আসে বাঞ্ছারামপুর থানার এক এএসআইয়ের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ। কথোপকথনে চুরির বিষয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ ও বন্ধুসুলভ আলাপ জনমনে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীরের ভাষ্যমতে, জিজ্ঞাসাবাদে আলাল দাবি করেন—চুরির আগে তিনি ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে ফোন করে জানান। তখন নাকি “এএসআই মাসুদ চোর আলালকে বলেন, আজ ঠান্ডার দিন রাত ১টা বাজে। বসে আছিস কেন? কাজ কর। প্রতিউত্তরে চোর বলেন, কাজ করতে বের হচ্ছি। ধরা পড়লে এগিয়ে গিয়ে সহযোগিতা কইরেন।''
আলাল মিয়া জানান, অতীতে মাদক ব্যবসার সময় থেকেই ওই কর্মকর্তার সঙ্গে তার সম্পর্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে নিয়মিত অর্থ প্রদানের মাধ্যমে তিনি পুলিশের সহযোগিতা পেতেন বলেও দাবি করেন। সর্বশেষ গরু চুরির সময়ও একইভাবে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানান তিনি।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই মাসুদ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি তাকে না চিনেই ইমুতে কথা বলেছি, তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, ‘দশানি গ্রামের গরু চুরির ঘটনায় আলাল মিয়া নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। আমাদের এক সদস্যের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়টি আমরা শুনেছি। যদি অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা জনবিশ্বাসে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
আপনার মন্তব্য