২৬ মার্চ, ২০২৬ ০২:০৭
ভিডিও থেকে সংগৃহীত ছবি।
দুপুরের আলো তখন ধীরে ধীরে বিকেলের দিকে ঝুঁকছে। নদীর ওপর হালকা কুয়াশার মতো এক ধরনের বিষণ্নতা। সেই সময় ফেরির ডেকে দাঁড়িয়ে ছিলেন নুরুজ্জামান—হাতে শক্ত করে ধরা চার বছরের শিশুপুত্র। তার চোখে ছিল ক্লান্তি, তবু ছিল ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের এক টুকরো আনন্দ। কিন্তু মুহূর্তেই সব বদলে গেল। তার চোখের সামনেই, খুব কাছে, খুব পরিচিত একটি বাস—যেটিতে রয়ে গেছে তার স্ত্রী আর ছোট্ট আরেক সন্তান—হঠাৎ কেঁপে উঠল, তারপর ধীরে ধীরে, নির্মমভাবে নদীর গর্ভে ঢলে পড়তে শুরু করল।
নুরুজ্জামান প্রথমে বুঝতেই পারেননি—এটা সত্যি, নাকি দুঃস্বপ্ন। বাসটি ডুবে যেতে দেখে তিনি ছুটতে শুরু করেছিলেন। কয়েক পা দৌড়েছিলেনও। কিন্তু তারপর থেমে গেলেন। কেন থামলেন—ভয়, হতবুদ্ধি, না কি বুঝে উঠতে না পারা বাস্তবতা—তার উত্তর কেউ জানে না। তার চোখের সামনে তখন শুধু নদী। আর সেই নদীর নিচে হারিয়ে যাচ্ছে তার পৃথিবী—তার স্ত্রী, তার আরেক সন্তান।
হাতে ধরা শিশুটি কাঁদছিল, কিন্তু নুরুজ্জামানের চোখে কোনো শব্দ ছিল না। শুধু এক গভীর, নিশ্চুপ ভাঙন।
ফোনে কথোপকথনের ভিত্তিতে ঘটনাটির বর্ণনা দেন নুরুজ্জামানের প্রতিবেশী ইলিয়াস হোসেন। তিনি জানান, নুরুজ্জামান খন্দকবাড়িয়া গ্রামের কামরুজ্জামানের ছেলে। তাদের পরিবারটি গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করে না; কামরুজ্জামান তার স্ত্রী আয়েশাকে নিয়ে ঢাকায় থাকেন। নুরুজ্জামানের অন্য দুই ভাই প্রবাসে রয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা দৌলতদিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানান তিনি।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে তলিয়ে যায়। বাসটিতে ৫৬ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার পর উদ্ধার কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এ ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত নারী-শিশুসহ ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৩২ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আপনার মন্তব্য