নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:১২

মহাসচিব পদে আলোচনায় ৪ নাম, ভারপ্রাপ্তের সম্ভাবনায় এগিয়ে রিজভী

তবে এখনই মহাসচিব পাচ্ছে না বিএনপি

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের মহাসচিব পদ-সহ অন্যান্য পদ থেকে পদত্যাগের পর বিএনপির মহাসচিব কে হচ্ছেন— এনিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনই কাউকে মহাসচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে। এজন্যে বিএনপির পরবর্তী কাউন্সিল পর্যন্ত অপেক্ষা করা হতে পারে। এক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে একজনকে পেতে পারে বিএনপি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে এই মুহূর্তে আলোচনায় রয়েছে ৪ নাম। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, সদ্য স্থায়ী কমিটিতে যাওয়া সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদের নাম। এছাড়াও আলোচনায় রয়েছে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম।

দলীয় একটি সূত্রের দাবি, মহাসচিব পদ নিয়ে হাইকমান্ডের ভাবনা অনেকটাই এগিয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে এখনই নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। এটা নিয়ে এখনই স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা না হলেও, আলোচনা হলে এই বিষটিকেও প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মহাসচিবের পদ শূন্য হলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই হিসাবে রিজভীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছে দলের একটি অংশ। পরে দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে তাকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হতে পারে।

এক্ষেত্রে সামনে আসছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মহাসচিব পদ প্রাপ্তির উদাহরণও। খন্দকার দেলোয়ারের মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুলকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করেছিল বিএনপি। ভারমুক্ত হতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে পরবর্তী কাউন্সিল পর্যন্ত। বর্তমানে শূন্য হওয়া মহাসচিব পদে একই নীতি অনুসরণ করা হতে পারে।

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে সম্ভাবনার মধ্যে থাকা স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সালাহউদ্দিন আহমদের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। দলীয় নীতিনির্ধারণ, রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ এবং আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকা হাইকমান্ডের বিবেচনায় রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। বিশেষ করে বিগত রাজনৈতিক আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গুমের শিকার হওয়া, জুলাই সনদ প্রণয়ন এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতার কারণে মহাসচিব পদে সালাহউদ্দিনের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবেও দলের অভ্যন্তরে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অন্যদিকে রুহুল কবীর রিজভীর শক্তির জায়গা মাঠের রাজনীতি ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিন বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সামলেছেন তিনি। বিরোধী দলের সময়ে মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তার উপেক্ষা করে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত অবস্থান এবং রাজপথের কর্মসূচিতে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাছে তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব পেলেও দলীয় কর্মকাণ্ডে রিজভীর সক্রিয়তা কমেনি। ফলে দলীয় সংগঠন, নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাজপথের অভিজ্ঞতার কারণে মহাসচিব হিসেবে তার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বিএনপির একটি অংশ।

রিজভীর সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে বিএনপির গতকালের সিদ্ধান্ত। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন চার নেতাকে সদস্য করা হয়েছে। তারা হলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরহাদ হালিম (ডোনার) এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। এর ফলে রিজভী এখন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের যে প্রশ্ন ছিল, নতুন এই সিদ্ধান্তের পর সেটি অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সালাহউদ্দিন আহমদ ও রুহুল কবীর রিজভীর বাইরে আলোচনায় থাকা সাবেক দুই ছাত্রনেতা শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী ও হাবিব উন নবী খান সোহেলের সম্ভাবনার কারণ হচ্ছে রাজপথের অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, মহাসচিবের পদ শূন্য হলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দায়িত্ব পালন করবেন। পরে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচন করা হবে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ‘বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের চেয়ারম্যানকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া আছে। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান ও হাইকমান্ডই সিদ্ধান্ত নেবেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা এখন পর্যন্ত তেমন কিছু জানি না।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত