১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৯
দেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার একমাসেরও কম সময়র মধ্যে সিলেট সফরে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার সকালে তিনি সিলেট সফরে আসবেন।
মূলতঃ হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপারন (রহ.) এর মাজার জিয়ারতের জন্য সিলেটে আসা হলেও আজ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তাকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হবে।
এদিকে, রাষ্ট্রপতিকে বরণ ও সংবর্ধনার জন্য সিলেটজুড়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। কয়েকদিন ধরেই চলছে নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সব মিলিয়ে নগরজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ।
রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোও নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রটোকল শাখার কর্মকর্তা আবুল কালাম মো. লুৎফুর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি। বেলা সোয়া ১১টায় তাঁকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সেখান থেকে মোটর শোভাযাত্রাসহ বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে সিলেট সার্কিট হাউসে পৌঁছাবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর দুপুর সাড়ে ১২টায় হযরত শাহজালাল (রহ.) ও বেলা ১টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন রাষ্ট্রপতি।
পরে বেলা সাড়ে ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সিলেট নগর ভবনে সিলেট সিটি করপোরেশনের আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠান শেষে সার্কিট হাউসেই অবস্থান করবেন তিনি। রাত ৮টায় বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।
সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে সিলেট মহানগর পুলিশের পর্যাপ্তসংখ্যক কর্মকর্তা ও ফোর্স মোতায়েন থাকবে। সফরের দিন এক হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি আরও ২০০ সদস্য অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। এর বাইরে নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কাজ করবে পুলিশের বিশেষ ইউনিটগুলো।
পুলিশ কমিশনার জানান, রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় সিলেট মহানগর পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। বিভিন্ন ভেন্যুতে পোশাকি পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষ্যে নগরের সৌন্দর্যবর্ধণ করা হয়েছে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ডিভাইডার, কিন ব্রিজ, সার্কিট হাউজসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন রং করা হয়। এছাড়া সিটি করপোরেশন এবং হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধণের কাজ করা হয়।
সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সংবর্ধনা সভায় সিলেট অঞ্চলের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি ছাড়াও রাজনীতিবিদরা অংশ নেবেন। এছাড়া সিলেটের বিশিষ্ট নাগরিকরা এতে উপস্থিত থাকবেন।
সিসিক জানায়, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সিসিকের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শীতল পাটি, চা গাছের রেপ্লিকা, চা পাতা ও ফার্স্ট লেডির জন্য মণিপুরী শাড়ি উপহার প্রদান করা হবে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আমরা নাগরিক সমাজের সাথেও কথা বলেছি।
তিনি বলেন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নাগরিক সমাজের সাতজন প্রতিনিধি বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া সিলেটের দুজন দুজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী এবং কয়েকজন সংসদ সদস্য বক্তব্য রাখবেন।
গত ২১ আগস্ট বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আপনার মন্তব্য