২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:১৮
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে পুলিশের বিরুদ্ধে বাবা-মেয়েসহ একই পরিবারের তিনজনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর গ্রামবাসী থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করলে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বগাডুবী রেললাইনের মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। বিকেল ৪টার দিকে ভুক্তভোগীদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী তিনজন হলেন আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ আলী (৫০), তাঁর মেয়ে জাসমিন আক্তার (২৪) ও ভাই ইউনুস মিয়া (৪৫)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কালিশিরী গ্রামের ‘কারী সাব’ নামে পরিচিত একটি পরিবারের সঙ্গে নারীসংক্রান্ত এবং রাস্তা নিয়ে ছায়েদ আলীর বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ১০-১২টি মামলা চলমান। আজ সকালে একটি মামলায় হাজিরা দিতে ছায়েদ মিয়া, তাঁর মেয়ে জাসমিন ও ভাই ইউনুস ইজিবাইকে চুনারুঘাট যাচ্ছিলেন।
ছায়েদ আলীর অভিযোগ, বগাডুবী রেললাইনের মোড়ে পৌঁছালে এসআই মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাঁদের ইজিবাইকের গতিরোধ করে। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজনও পুলিশের সঙ্গে ছিলেন। পরে তাঁদের তল্লাশি করে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দেখানোর চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তাঁদের পুলিশের গাড়িতে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
জানা গেছে, ছায়েদ আলীকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে কালিশিরী গ্রামের শত শত মানুষ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিএনপির নেতারা এবং আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা থানায় উপস্থিত হন। পরে ছায়েদ আলী, তাঁর মেয়ে ও ভাইকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ছায়েদ আলীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, যদি এটি সাজানো ঘটনা হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনের ব্যত্যয় ঘটাতে দেওয়া হবে না। এ ঘটনায় থানার এসআই মামুনসহ যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আপনার মন্তব্য