২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২৯
ছবি: সংগৃহীত ।
শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়নি। জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল। এই আন্দোলনে অনেকে হাত হারিয়েছেন, পা হারিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। বহু মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি।
‘‘কিন্তু যে স্বপ্ন আমাদের মধ্যে ছিল, সেই স্বপ্ন আমরা এখনো বাস্তবায়ন করতে পারিনি। গণভোটের রায়ও বাস্তবায়ন হয়নি। গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দেওয়ার পরও জনগণের সেই রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে বর্তমান সরকার।’’
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর শহরে ইসলামি ছাত্রশিবির উপজেলা শাখার আয়োজনে ছাত্র গণজমায়েত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘‘বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে, ছাত্র-জনতার রক্তের সঙ্গে, শহীদ আসিম, শহীদ মুগ্ধ ও শহীদ আবু সাঈদের রক্তের সঙ্গে আজ প্রতারণা করা হচ্ছে। হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করে এখন জনগণের দেওয়া রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হচ্ছে।’’
‘‘রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোতে কোনো কার্যকর সংস্কার আমরা দেখতে পাইনি। তারা চায় না এ দেশে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্গঠিত হোক। নিজেদের মতো করে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা তৈরি করে নতুন নাটক সাজিয়ে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার অধীনে দ্বিতীয় নির্বাচন করে চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকার ব্যবস্থা করার জন্যই বিএনপি জুলাই চার্টারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।’’
সাদ্দাম বলেন, ‘‘বিএনপি জনগণের সঙ্গে তামাশা করে একদলীয় শাসন কায়েম করার জন্য বাংলাদেশের প্রত্যেকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের যেখানে থাকার কথা ছিল, সেখানে নিজেদের লোক বসিয়েছে। প্রত্যেকটি সিটি করপোরেশনে নিজেদের পরাজিত এবং জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত প্রার্থীদের বসিয়ে আবার তারা নব্য ফ্যাসিবাদ তৈরি করতে চাচ্ছে। দুর্নীতি, দুঃশাসন, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি শুরু করেছে।’’
‘‘যে অপকর্ম ও লুটপাট তারা শুরু করেছে, জনগণ তাদের পা ধরে টেনে-হিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে এই বাংলাদেশ থেকে তাদের পুনর্বাসন করবে।’’
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বড়লেখা উপজেলা শাখার সভাপতি নোমান আহমদের সভাপতিত্বে ও উপজেলা উত্তর শাখার সভাপতি হানজালা আহমদ-এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম, শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও ডাকসু সদস্য শাহিনুর রহমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন, বাংলাদেশের জামায়াতের জেলা মজলিসের শুরা ও কর্ম পরিষদের সদস্য মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মজলিসে শুরা সদস্য এমাদুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের নায়াবে আমির ফয়সল আহমদ ও আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ সুমন, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল বাছিত, উপজেলা পেশাজীবি বিভাগের সভাপতি আব্দুল মোহাইমিন, সদর ইউনিয়ন সভাপতি রবিউল ইসলাম সুহেল প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য