২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৬
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় গভীর রাতে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে মিছিল করার অভিযোগে সাত কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আটক সাতজনই কিশোর বলে জানা গেছে।
আটকদের স্বজনেরা জানান, তারা স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী। আটককৃতরা হলেন—অনিক দাস (১৭), গ্রাম-হবিবপুর; বর্ষণ তালুকদার (১৭), সৌমিত্র দাস (১৬), অভি দাস (১৫), রুপম দাস (১৫), দ্বীপ্ত দাস (১৬) ও ইমন দাস (১৫)। তাদের সবার বাড়ি ডুমরা গ্রামে। স্থানীয়দের দাবি, আটক কিশোররা সবাই শিক্ষার্থী। সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এদের মধ্যে বর্ষণ তালুকদার ও অভী দাস কলেজ পড়ুয়া ছাত্র। বাকিরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণীতে অধ্যয়নরত।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গভীর রাতে ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারের একটি দোকানে পার্টি করেন ওই কিশোররা। পরে পার্টি শেষে সবজি বাজার হয়ে থানা রোড দিয়ে যাওয়ার সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে মিছিল করেন তারা। এ সময় সরাসরি শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সুহেলের নজরে আসে বিষয়টি। তিনি তখন থানার পাশে শহীদ আলী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটছিলেন। মিছিল চলাকালে তাৎক্ষণিকভাবে ৩-৪ জনকে আটক করে পুলিশ। অন্যরা পালিয়ে গেলে পরে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সূত্রটি জানায়।
আটক অভি দাসের বাবা বাদল দাস বলেন, “আমার ছেলে রাজনীতির সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্ট নয়। প্রথমে আমি ঘটনা জানতাম না। পরে সকালে থানায় গিয়ে দেখি তারা আটক। এখন সুনামগঞ্জে যাচ্ছি।”
আটক রুপম দাসের মা হেপি দাশ বলেন, “আমার ছেলে বিজ্ঞানের ছাত্র, নবম শ্রেণিতে পড়ে। ওরা একটি ক্লাবে ফুটবল খেলে। ফুটবলের প্রতি তাদের নেশা বেশি। নতুন কুঁড়িতে ক্রিকেটে সে রানার্স আপ হয়েছে। ওরা বাজারে পার্টি খেয়েছিল। পরে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু ওরা রাজনৈতিক সেন্সে এগুলো দেয়নি। দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কেও ওরা অবগত না। কিন্তু ঘটনাটি নিয়ে বেশ চিন্তিত আছি।”
ঘটনাটি নিয়ে আটক কিশোরদের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এবিষয়ে অফিসার ইনচার্জ মোঃ সুহেল বলেন, তাদেরকে শুধু শিক্ষার্থী হিসেবে দেখলে চলবে না। রাতের আধারে স্লোগান দিয়ে মিছিল দেওয়ার পেছনে মানুষের জানমাল ক্ষতিসাধন সহ অন্যান্য বিষয়ও রয়েছে। সে জন্য তাদেরকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আপনার মন্তব্য