২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৮
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় সুনামগঞ্জে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও নিয়োগ তালিকা থেকে ১২০ জন বাদ পড়ার প্রতিবাদে ও নিয়োগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন নিয়োগ প্রার্থীরা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করতে গিয়ে জেলা প্রশাসককে না পেয়ে তার বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন নিয়োগ প্রার্থীরা। বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলবেন—এমন আশ্বাসে অবস্থান কর্মসূচি থেকে বাড়ি ফেরেন নিয়োগ প্রার্থীরা।
জানা যায়, গেল ২ জানুয়ারি সারা দেশের ন্যায় সুনামগঞ্জের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সদরসহ আশপাশের বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪ হাজার ৪৮৯ জন নিয়োগপ্রত্যাশী। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন দুই হাজার ১৫৯ জন। ২৮ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন দুই হাজার ৯৯ জন। এই পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন ৬৩৭ জন। এর মধ্যে ২০ জন পরীক্ষার্থী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি অফিসে। পরে উত্তীর্ণ ৬১৭ জনকে নিয়োগ প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠায় জেলা শিক্ষা অফিস কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত তালিকায় মেধাক্রমের সামনের দিকে থাকা ১২০ জনের নাম দেওয়া হয়নি।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও নিয়োগ তালিকায় নাম না থাকায় নিয়োগ প্রার্থীরা চরম হতাশায় পড়েছেন। কেন তারা বাদ পড়েছেন তা তাদেরকে জানানো হয়নি, বাদ পড়ার কোনো কারণ জানেন না তারা। দ্রুত তাদেরকে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান প্রার্থীরা। নিয়োগের দাবিতে আজ জেলা শিক্ষক নিয়োগ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করতে এসেছিলেন তারা। জেলা প্রশাসককে না পেয়ে তারা জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে অবস্থান করেন।
দিরাই উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা অসীম কুমার দাস বলেন, আমরা জানি আমাদের চাকরি হয়েছে, যোগদানের প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই নিয়োগ তালিকা থেকে আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলতে আসছিলাম। এখন আমরা কী করব, কার কাছে যাব, কোথায় যাব বুঝতে পারছি না। আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছি। আমাদের পরিবারের সদস্যরাও ভেঙে পড়ছেন।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপাশা গ্রামের বাসিন্দা মো. আশরাফুল আলম বলেন, নিয়োগ তালিকা থেকে বাদ পড়ায় আমাদের অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কোনো কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়ায় অনেকের পরিবার হতাশায় পড়েছে। আমরা কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
জগন্নাথপুর উপজেলার কুশারাই গ্রামের মো. আরিফ উদ্দিন বলেন, আমরা জানি চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছি। দীর্ঘ ৮ মাস আমরা অপেক্ষা করেছি কোন দিন আমাদের নাম প্রকাশ করা হবে ও যোগদানের জন্য বলা হবে। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই অন্যায়ভাবে আমাদের ১২০ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধ, অনিয়ম-দুর্নীতির সম্পৃক্ততা নেই, তারপরও কেন বাদ দেওয়া হলো আমরা জানতে চাই। আমরা নিয়োগ চাই।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান বলেন, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় নিয়োগ তালিকা থেকে বাদ পড়ায় নিয়োগ প্রার্থীরা আজকে জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করতে এসেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলব। কারণ নিয়োগ প্রক্রিয়া ও নিয়োগের বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ কাজ করে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস বলেন, সুনামগঞ্জে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬১৭ জনের মধ্যে ১২০ জনের যোগদানপত্র আপাতত দেওয়া হচ্ছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মন্তব্য