২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৩৮
‘একটা সময় হৃদরোগকে সাধারণত বয়স্ক মানুষের রোগ বলেই মনে করা হতো। কিন্তু আজকাল প্রায় সব বয়সী মানুষই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই হৃদরোগের লক্ষণসমূহ এবং তা থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে আমাদের সবারই জেনে রাখা উচিত।’
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষ্যে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট আয়োজিত আলোচনা সভা ও গণমূখী সেমিনারে বক্তারা এমনটি বলেন।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমাদের শরীরের সংবেদনশীল কর্মক্ষম অঙ্গ হলো এই হৃদপৃন্ড। অথচ অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন, অস্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং মানুষিক চাপের কারণে আজ হৃদরোগ মারাত্মকত আকার ধারণ করেছে। সেই হৃদরোগীদের সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল যে সেবা প্রদান করে যাচ্ছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে।
হৃদরোগ চিকিৎসায় বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়ে, দেশে বর্তমানে উন্নত মানের চিকিৎসা হয় উল্লেখ করে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, হৃদরোগ থেকে মুক্ত থাকতে হৃদবান্ধব খাদ্যাভাস গড়ে তুলতে হবে এর কোন বিকল্প নেই।
তিনি আরো বলেন কেবল ওষুধ নয় খাদ্যাভাসই পারে হৃদরোগ থেকে মুক্ত রাখতে। চিকিৎসকদের চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি জনসাধারণকে রোগ সম্মন্ধে ধারনা দিতে হবে। বিশেষ করে হৃদরোগ যাতে না হয় সেই কারণগুলো তুলে ধরতে হবে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী দেশে হৃদরোগ চিকিৎসার অবদানের জন্য জাতীয় অধ্যাপক মরহুম ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক এর কথা স্বরণ করেন। তিনি বলেন সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য।
প্রধান অতিথি বলেন, সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়াত প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের কথা তুলে ধরেন।
ঐ দিন সকালে হৃদরোগ বিষয়ে সচেতনতামূলক একটি র্যালীর আয়োজন করা হয় এবং র্যালী পরবর্তী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোঃ আমিনুর রহমান লস্কর এর সভাপতিত্বে জয়েন্ট সেক্রেটারী আবু তালেব মুরাদের পরিচালনায় এবং হাফেজ আব্দুল বাছির কর্তৃক কোরআন তেলাওয়াতের পর বিশ্ব হার্ট দিবসের আলোচনা সভা ও গণমূখী সেমিনার অনুষ্ঠানে ‘কোন ব্যক্তির হৃদস্পন্দন বা স্বাসপ্রশ্বাস হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে রক্ত ও অক্সিজেন স্বচল রাখতে জীবন রক্ষাকারী জরুরী চিকিৎসা পদ্ধতি সিপিআর’ নিয়ে বক্তব্য রাখেন সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ইন কার্ডিওলজি ডা. ফারজানা তাজিন এবং বাইপাস সার্জারী (সিএবিজি) সম্মন্ধে আলোকপাত করেন সিনিয়র কনসালটেন্ট ইন কার্ডিয়াক সার্জারী ডা. দেওয়ান ইফতেখার রাজা চৌধুরী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৪৯ জন হৃরোগীর বাইপাস সার্জারী কোন দুর্ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মোঃ আমিনুর রহমান লস্কর বলেন, একটা সময় হৃদরোগকে সাধারণত বয়স্ক মানুষের রোগ বলেই মনে করা হতো। কিন্তু আজকাল প্রায় সব বয়সী মানুষই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই হৃদরোগের লক্ষণসমূহ এবং তা থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে আমাদের সবারই জেনে রাখা উচিত।
তিনি আরও বলেন গবেষণায় দেখা যায়, পারিবারিক ইতিহাস ও জেনেটিক বৈশিষ্ট্যই হৃদরোগের ক্ষেত্রে প্রধান ও নিয়ন্ত্রণের অযোগ্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অসাবধানতার কারণেই মানুষ আজকাল হৃদরোগে আক্রান্ত হন বেশি। এছাড়া মানুষ সচেতনতার গুরুত্ব জানলেও দৈনন্দিন জীবনে তা মানে না, বিশেষ করে ধুমপায়ী যারা।
তিনি বলেন, হৃদরোগের ক্ষেত্রে সামান্য লক্ষণ এরিয়ে চলা অত্যন্ত বিপদজনক হতে পারে। কোন উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তিনি উল্লেখ করেন যে, অত্র হাসপাতালে দক্ষ কার্ডিওলজিস্টদের তত্ত্ববধানে এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টি, প্রাইমারি পিসিআই, পার্মানেন্ট পেসমেকার, টেম্পরারী পেসমেকার এবং অন্যান্য প্রসিডিউর সহ এ পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার হৃদরোগীর চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।
বিশ্ব হার্ট দিবস’২০২৬ এর এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘প্রতিটি হৃদস্পন্দনই জীবন’। এই উপর বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট এর সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. মোঃ আলতাফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শোয়েব আহমেদ মতিন, কার্যকরি কমিটির সদস্য ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী ও লিভার ফাউন্ডেশন সিলেট এর সিইও শতকতুর রহমান।
ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট এর পাবলিসিটি সেক্রেটারী অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সালাম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট এর সোস্যাল সেক্রেটারী আব্দুল মালিক জাকা, ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন সেক্রেটারী এস আই আজাদ আলী, হাসপাতালের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. মোঃ আব্দুল মুনিম চৌধুরী এবং সহকারী পরিচালক ডা. আলা উদ্দিন আহমেদ।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে সুবিধাবঞ্চিত হৃদরোগীদেরকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ সেবার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা সহ মোট প্রায় ৫৮ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে সহযোগিতা প্রদান করেন বাংলাদেশ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সিলেট ইউনিট, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড, এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।
আপনার মন্তব্য