০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৫৬
চারটি কমলার দাম ৫০ হাজার টাকা। বিষয়টি বিস্ময়কর হলেও সত্য। দাম শুনে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মরিচা মাদ্রাসার ওয়াজ মাহফিলে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত একটার দিকে মাহফিলের প্রধান অতিথি শায়খুল হাদিস মুফতি মুশাহিদ আলী ক্বাসেমী বয়ান করছেন। বয়ান শেষে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে এক হালি কমলা তিনি প্রকাশ্যে নিলামে তোলেন। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতার কথা চিন্তা করে এই ৪টি কমলা নিলামের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করেন যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রবাসী।
মাহফিল সংশ্লিষ্টরা জানান, বুধবার রাতে উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মরিচা মাদ্রাসার ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এই মাহফিলে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে এক হালি কমলা প্রকাশ্যে নিলামে তোলেন মাহফিলের প্রধান অতিথি ও শেষ বক্তা শায়খুল হাদিস মুফতি মুশাহিদ আলী ক্বাসেমী। এ সময় ফেসবুকে পুরো ওয়াজসহ নিলাম পর্ব লাইভ চলছিল। নিলামের একপর্যায়ে সর্বোচ্চ দাম হাঁকিয়ে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে চারটি কমলা কেনেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আব্দুল মালিক রুকন।
ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলে অংশগ্রহণকারী শ্রোতারা বলেন, মাহফিল শেষে দোয়ার আগে কমলাগুলো নিলামে তোলা হয়। ৫ হাজার টাকা থেকে ডাক শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকায় ডাক উঠেছে এবং বিক্রি হয়েছে। নিলামে যারা অংশগ্রহণ করেছেন সবার উদ্দেশ্য ছিলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা করা। এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় পরিচালনা করা হয়।
নিলামে কমলা কিনে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আব্দুল মালিকের ছেলে আব্দুল আজিজ সালমান বলেন, ‘আমার বাবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতার কথা চিন্তা করে কমলাগুলো ক্রয় করেছেন। এছাড়াও বছরে ৩৬ হাজার টাকা দিয়ে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য সবসময় পাশে থাকেন। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে এই মাহফিল করা হয় যাতে সবাই সহযোগিতা করেন।’
মরিচা মাদ্রাসার সভাপতি সোলেমান আহমেদ ও মাদ্রাসার মুহতামিম হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেন, মাদ্রাসার সহযোগিতার কথা চিন্তা করে বিগত কয়েকবছর ধরে ওয়াজ-মাহফিলে বিভিন্ন ফল নিলাম করা হয়। এবার চারটি কমলা নিলামে তোলা হলে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
এছাড়াও আধা কেজি খেজুর ১৫ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি হয়েছে। মূলত এই ফলগুলো এত দামে বিক্রি হওয়ার কারণ হলো মাদ্রাসায় সহযোগিতা করা। যারা ফল কিনেছেন তারা হলেন মাদ্রাসার শুভাকাঙ্ক্ষী।
আপনার মন্তব্য