১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:১৮
জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির আওতায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে বেওয়ারিশ ও পোষা কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১৫ দিন ব্যাপাী এ কর্মসূচীতে সাড়ে ৪ হাজার বেওয়ারিশ কুকুরকে ভ্যাকসিন প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। টিকা দেওয়া কুকুরগুলোকে বিশেষ রং দিয়ে চিহ্নিত করা হবে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে সোমবার সকাল ১১টায় নগরীর মির্জা জাঙ্গাল এলাকার জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
উদ্বোধনকালে সিসিক প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব। নগরীর বিভিন্ন এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাড়া-মহল্লা ও হাসপাতালের আশপাশে কুকুরের উপদ্রবের খবর পাওয়া যায়। তবে কুকুর নিধন কোনো সমাধান নয়। কুকুরের কামড়ে মানুষের শরীরে জলাতঙ্কের সংক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এ টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী ১৫ দিন ঢাকা থেকে আসা বিশেষ কর্মীদের চারটি দল মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সিটি কর্পোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের বেওয়ারিশ ও পোষা কুকুরকে টিকার আওতায় আনা হবে। টিকা দেওয়ার পর সহজে শনাক্ত করার জন্য কুকুরের শরীরে বিশেষ রঙের চিহ্ন দেওয়া হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য সিটি কর্পোরেশনের একজন মনোনীত প্রতিনিধিও দায়িত্ব পালন করবেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, কুকুরের জলাতঙ্কের টিকাদান সময়োপযোগী উদ্যোগ। যেসব এলাকায় কুকুরের উপদ্রব বেশি, সেসব এলাকার তথ্য দিয়ে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করতে তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট নগরীকে সুন্দর ও নিরাপদ করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কুকুরের টিকাদান। প্রাণী নিধন করা যাবে না। তাই কুকুরকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে নগরবাসীকে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিসিক প্রশাসক বলেন, কুকুরের টিকাদান করা হলে কুকুরের কামড়ের মাধ্যমে জলাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে। তবে কেউ কুকুরের কামড়ের শিকার হলে কোনোভাবেই বিষয়টি অবহেলা করা যাবে না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জলাতঙ্কের টিকা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, আগে কুকুরের উপদ্রব বেড়ে গেলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো কুকুর নিধনের উদ্যোগ নিত। বর্তমানে প্রাণী নিধনের সুযোগ নেই। তাই টিকাদানের মাধ্যমে কুকুর থেকে মানুষের জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানোই কার্যকর পথ। সিসিক নাগরিকদের কল্যাণে কাজ করে। তাই প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগকে সহযোগিতা করে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন অর্থসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, কোনো এলাকায় কুকুরের উপদ্রব বেশি হলে সিটি কর্পোরেশনকে জানাতে হবে। সিসিকের হটলাইন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে তথ্য দেওয়া যাবে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কর্মসূচিটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন এলাকা ও প্রতিষ্ঠান থেকে কুকুরের উপদ্রব নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর সিটি কর্পোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ সমন্বিতভাবে এ কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। সিসিকের অর্থায়নে ১৫ দিনব্যাপী নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে টিকাদান কার্যক্রম চলবে। প্রতিটি কুকুরকে টিকা দেওয়ার পর বিশেষ রং দিয়ে চিহ্নিত করা হবে। এতে টিকা দেওয়া ও না দেওয়া কুকুর সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জোনায়েদ কবীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, ম্যাস ডগ ভ্যাকসিনেশন এক্সপার্ট ডা. হাবিবুর রহমান, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ভেটেরিনারি সার্ভিসের টিম কো-অর্ডিনেটর ডা. মো. কামরুল ইসলাম ও হাসান সাইয়েদুল মুরসালিন। উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি ডা. আবু সালমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাহিদ আরজুমান বানু, ডা. আব্দুস শহিদ হোসেন, ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও ডা. শারমিন আক্তার।
আপনার মন্তব্য