নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:০৯

সিলেটে যুবদল নেতা বদরুল হত্যা: সন্দেহভাজন আসামি আটক

সিলেটের গোয়াইনঘাটে যুবদল নেতা বদরুল আলম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আমিন মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের গুরাগ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক আমিন মিয়া ওই গ্রামের মুহিবুর রহমানের ছেলে।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, বদরুল আলম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে আমিন মিয়াকে আটক করেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

এদিকে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত বদরুল আলমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বাদ এশা হাদারপার শাহী ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ভাই মাওলানা আখলাকুল আম্বিয়া।

এর আগে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে রোববার সন্ধ্যায় বদরুল আলমের মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়। তার জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১০ টার দিকে নিহত বদরুল আলম ও তার সহযোগী সাদেক আহমদ ব্যবসায়ীক কাজে মোটরসাইকেল যোগে পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের মনরতল বাজারে গিয়েছিলেন। এরপর ভোররাত আনুমানিক ৪টায় দুর্বৃত্তের হামলায় ঘটনাস্থলেই বদরুল আলম নিহত হন।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত সাদেক আহমদ ও নিহত বদরুল আলমের ভাই মাওলানা আখলাকুল আম্বিয়া জানান, রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ব্যবসায়ীক কাজে মোটরসাইকেল যোগে পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের মনরতল বাজারে গিয়েছিলেন নিহত বদরুল আলম ও ছাদেক। এ সময় তাদের সাথে নগদ ৩০ লক্ষ টাকা ছিল। ব্যবসায়ীক কাজ শেষে ভোররাতে বাড়ি ফেরার পথে তাদের সাথে নগদ ৩০ লাখ টাকা ও ২৯ টি গরুসহ গুরাগ্রামের দীঘি সংলগ্ন এলাকায় পৌছার পর রুস্তুমপুর ইউনিয়নের গুরাগ্রাম গ্রামের ময়বুর রহমানের ছেলে শাহীন আহমদ ও মামুন মিয়া এবং উপর গ্রামের আব্দুস শহিদ আহমদের ছেলে নোমান আহমদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রে ১৫/১৬ সদস্যের সংঘবদ্ধ একটি দল বদরুল আলম ও সাদেক আহমেদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে নগদ ৩০ লাখ টাকা ও ২৯টি গরু ছিনিয়ে নেয়।

এ সময় ধারালো রামদা ও ছোরার আঘাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন বদরুল ও সাদেক। দূর্বৃত্তরা তাদের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে বলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। রবিবার (১১অক্টোবর) ভোরে পথচারীরা বদরুল আলম ও ছাদেকের দূর্ঘটনার খবর তাদের আত্মীয় স্বজনের কাছে পৌঁছে দেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে বদরুল আলম ও ছাদেক আহমদকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক বদরুল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর দিকে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাদেক আহমেদ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত