১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:১৫
সিলেট সার্কিট হাউসের ভিভিআইপি কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে বেরিয়ে আসছে নানা রহস্যজনক তথ্য। আদালতের অনুমতি না নিয়ে সার্কিট হাউসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জিডি করায় উচ্চ আদালত তলব করেছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের।
ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরুর পর রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা সার্কিট হাউসকে ঘিরে নানা রহস্য উদঘাটিত হচ্ছে। বেরিয়ে আসছে অরক্ষিত সার্কিট হাউসের অব্যবস্থাপনার নানা দিক।
এরমধ্যে সার্কিট হাউসে বহিরাগতদের আনাগোনা, আড্ডা, অবৈধ মেস, অব্যবস্থাপনা- এমনকি স্পর্শকাতর এই স্থানে নেশাদ্রব্য ব্যবসার অভিযোগও পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এমন অভিযোগ উঠার পর তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার আগেই নড়েচড়ে বসেছেন সার্কিট হাউসের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে হর্তাকর্তারা। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সার্কিট হাউসে খুলে বসা হারুন বাবুর্চির অবৈধ হোটেল ও মেস।
সোমবার হোটেল ও মেস বন্ধ করে দেয় জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে হারুন বাবুর্চিকেও সার্কিট হাউস থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার দিন ১০০ জনের খাবার খাওয়ার বিষয়টিও নজরদারি করা হচ্ছে। কারা ওই দিন সার্কিট হাউসে এসেছিলেন, সে ব্যাপারেও খোঁজ নেয়া হচ্ছে।
এদিকে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াও খতিয়ে দেখছে অব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো। এমনকি ঘটনা তদন্তে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত খোদ তদন্ত কমিটির অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তারা।
উল্লেখ্য, ২ মার্চ প্রধান বিচারপতি ছাড়াও অর্থমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী সিলেট সফর করেন। এই সফরে সিলেট সার্কিট হাউসের দ্বিতীয় তলার ২০১ নম্বর কক্ষটি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিশ্রামের জন্য সংরক্ষিত ছিল। সেদিন প্রধান বিচারপতি নির্ধারিত সময়ের বিলম্বে সিলেট পৌঁছান। প্রধান বিচারপতি বিমানবন্দর থেকে রওনা দিলে তার জন্য সংরক্ষিত সার্কিট হাউসের কক্ষ আকস্মিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যায়। ভস্মীভূত হয় সব সরঞ্জাম।
পরে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের জেনারেল রেজিস্টার সৈয়দ মো. আমিনুল ইসলামের পক্ষে ডেপুটি রেজিস্টার (প্রশাসন ও বিচার) মো. আজিজুল হক স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে অগ্নিকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরোকে এ ঘটনার তদন্তভার দেয়া হয়।
আপনার মন্তব্য