নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ মে, ২০১৬ ২১:৩২

চতুর্থ ধাপে এসে সিলেটে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি

২৪ টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জিতেছেন মাত্র ৭ টিতে

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে এসে সিলেটে লড়াইয়ে বিএনপির সাথে পিছিয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ। শনিবার অনুষ্ঠিত ২৪ ইউনিয়নের ফলাফলে আওয়ামী লীগের জন্য অনেকটাই বিপর্যয় বয়ে এনেছে। সিলেটের তিনটি উপজেলায় এদিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও কোনোটিতেই কাঙ্খিত ফলাফল করতে পারেনি ক্ষমতাসীন দলটি।

শনিবার নির্বাচন হওয়া সিলেট জেলার ২৪ টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ৭টিতে, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ৯টিতে ও ৮ টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। আগের তিনটি ধাপের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অনেকটা এগিয়ে থাকলেও এবারই প্রথম বিএনপির সাথে পিছিয়ে পড়লো দলটি। এই ফলাফলকে ভরাডুবি হিসেবে মন্তব্য করেছেন আ.লীগেরই অনেক নেতাকর্মী।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে আ. লীগ বিদ্রোহীরা জিতেছেন ৩টিতে, বিএনপি বিদ্রোহীরা জিতেছেন ২টিতে ও ৩টিতে জিতেছেন জামায়াত নেতারা।

প্রার্থীরা নির্বাচনে ভুল, দলীয় কোন্দল, বিদোহী প্রার্থী, প্রার্থীদের সাথে স্থানীয় সাংসদদের দ্বন্দ্ব, কর্মীদের নিস্ক্রিয়তা ও সরকারের প্রতি ক্ষোভের কারণে আওয়ামী লীগের এই বিপর্যয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে বিএনপি মনেনানীত প্রার্থী ৩ টিতে, আওয়ামী লীগ মনেনানীত প্রার্থী ২ টিতে ও জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র  প্রার্থী ২ টি ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছেন।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বরইকান্দিতে হাবিব হোসেন, কুচাই ইউনিয়নে আবুল কালাম ও দাউদপুর ইউনিয়নে এইচএম খলিল বিজয়ী হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সিলামে ইকরাম হোসেন ও মোগলাবাজার ফখরুল ইসলাম সাইস্তা নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়াও জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জালালপুর ইউনিয়নে সুলাইমান হোসেন ও লালাবাজারে পীর মো. ফয়জুল হক বিজয়ী হয়েছেন।

দক্ষিণ সুরমায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা

বিশ্বনাথ উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের মধ্যে দুটিতে আওয়ামী লীগ, দুটিতে বিএনপি ও দুটিতে দুই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

উপজেলার বিশ্বনাথ সদরে আ. লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফয়জুল হক (আনারস), দৌলতপুরে আ. লীগের আমির আলী (নৌকা), অলংকারীতে বিএনপির বিদ্রোহী নাজমুল ইসলাম রুহেল (চশমা), রামপাশায় আ. লীগের আলমগীর হোসেন (নৌকা), খাজাঞ্চিতে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন (ধান) ও লামাকাজীতে ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী কবির হোসেন ধলা মিয়া চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ৩টি, বিএনপির মনেনানীত প্রার্থী ৪ টি, জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী একটিতে, ২টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও ১টিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

গোলাপগঞ্জের ১ নং বাঘা ইউনিয়নে বিএনপি বিদ্রোহী ছানা মিয়া (আনারস), ২ নং সদর ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী আশফাক আহমদ চৌধুরী (ধানের শীষ), ৩ নং ফুলবাড়ি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান (ধানের শীষ), ৪ নং লক্ষীপাশা ইউনিয়নে আ. লীগের বিদ্রোহী কবির আহমদ মুসন (ঘোড়া), ৫ নং বুধবারী বাজার ইউনিয়নে আ. লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মস্তাব উদ্দিন (চশমা), ৬ নং ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নে জামায়াত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মো, আব্দুর রহিম (ঘোড়া), ৭ নং লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী নাছিরুল হক শাহীন (ধানের শীষ), ৮ নং ভাদেশ্বর ইউনিয়নে বিএনপির জিলাল উদ্দিন (ধানের শীষ), ৯নং উত্তর বাদেপাশা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মোস্তাক আহমদ (নৌকা), ১০ নং পশ্চিম আমুড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মঈন উদ্দিন (নৌকা) ও ১১ নং শরীফগঞ্জ ইউনিয়নে আ. লীগের এমএ মুহিত হীরা (নৌকা) বিজয়ী হয়েছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত