২২ মে, ২০১৬ ০০:০৫
ছেলের স্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের 'অভিযোগে' বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন বৃদ্ধা। অভিমানে বৃষ্টির মধ্যেই হাঁটছিলেন নগরীর রাস্তায়। শনিবার বিকেলে নগরীর দাড়িয়াপাড়া এলাকার এক গৃহিনী ভিজে জবুথবু অবস্থায় এই বৃদ্ধাকে নিজের ঘরে আশ্রয় দেন।
অবশেষে রাত ১১ টার দিকে তাকে দাঁড়িয়াপাড়ার ওই বাসা থেকে নিয়ে যায় কতােয়ালি থানা পুলিশ। এসময় সিলেট সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। বৃদ্ধাকে সমাজসেবা অফিসের সেফ হোমে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃদ্ধাকে নিজ বাসায় আশ্রয় দেওয়া দাঁড়িয়াপাড়া এলাকার গৃহবধূ রুমা আক্তার সুরমা জানান, রাত পর্যন্ত বৃদ্ধার পরিবারের কোনো সদস্য যোগাযোগ না করায় তিনি বাধ্য হয়ে কতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কল দেন। তবে ভারাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুহেল আহমদ 'এটি তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না' জানালে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করেন রুমা। পড়ে শহিদুল ইসলামের নির্দেশে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
রাত ১১ টায় কতোয়ালি থানার এএসআই জহিরুল ইসলাম, সিলেট সেইফ হোমের অফিস সহকারী হাবিবুর রহমান বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। এসময় দাঁড়িয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাবেক সংসদ সদস্য মুকিত খান উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন : ‘ছেলের বউ মারে’, তাই বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় বৃদ্ধা
এএসআই জহিরুল ইসলাম জানান, বৃদ্ধাকে কতোয়ালি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। একটি সাধারণ ডায়রি করার পর তাকে সেইফ হোমে নিয়ে যাওয়া হবে।
শনিবার বিকেলে আলাপকালে নিজের নাম বলতে না পারা এই বৃদ্ধা (বয়স আনুমানিক ৯০) অভিযোগ করেছিলেন, 'ছেলের বউ মারধর করে। ছেলেও ভালো করে কথা বলে না। আজ সকালে ছেলে কাজে যাওয়ার পর বউ আমাকে বাইরে বের করে ঘর তালাবন্ধ করে বাইরে চলে যায়। তাই আমি ছেলের বাসা থেকে চলে এসেছি।'
ছেলের বাসার থেকে বেরিয়ে দিনভর বৃষ্টির মধ্যেই হাঁটতে থাকেন নগরীর সড়কে।
শনিবার বিকেলে ঝড় আর বৃষ্টির মধ্যে নগরীর দাঁড়িয়াপাড়া এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে হাঁটছিলেন এই বৃদ্ধা। সন্ধ্যার দিকে দাঁড়িয়াপাড়া এলাকার গৃহবধূ রুমা আক্তার সুরমা ভিজে জবুথবু অবস্থায় বৃদ্ধাকে উদ্ধার নিজের বাসায় নিয়ে যান।
রুমা আক্তার জানান, নিজের বাড়ি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার মনতলা, নয়নপুর গ্রামে বলে জানিয়েছেন এই বৃদ্ধা। মাসখানেক আগে সিলেটে ছেলের বাসায় এসেছিলেন। তবে ছেলের বাসা নগরীর কোথায় তা জানাতে পারেননি বৃদ্ধা।
বৃদ্ধার বরাত দিয়ে রুমা জানান, বৃদ্ধার তিন ছেলে। আব্দুস সালাম, আব্দুল কালাম ও আব্দুল মালেক। এক মেয়ে ছিলো, মারা গেছেন। দুই ছেলে গ্রামের বাড়িতেই থাকেন। একজন থাকেন নগরীতে। রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। মাসখানেক আগে ছোট ছেলে আব্দুল মালেক নিজের বাসায় নিয়ে এসেছিলেন মাকে।
বৃদ্ধা আক্ষেপ করে বলেন, এখানে আসার পর ছেলেও কথা বলে না। বউ মারধর করে। আজকে আমাকে বাইরে রেখে সে ঘরে তালা মেরে চলে গেছে।
বৃদ্ধা আক্ষেপ করে বলেন, যুদ্ধের সময় ৫শ' টাকা দিয়ে জমি বিক্রি করে ছেলেমেয়েদের লালন পালন করেছি। এখন ছেলেমেয়েরা আমায় দেখে না।
আপনার মন্তব্য