২৫ মে, ২০১৬ ১৭:৩৭
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামের মৃত নুরুজ আলীর ছেলে ডাকাত গৌছ উদ্দিন (৩৫) হত্যায় জড়িত ২ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে বড়লেখা উপজেলার পশ্চিম সুড়িকান্দি গ্রামের লুৎফুর রহমানের ছেলে মারুফ আহমদ (২৫) ও দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপির মুড়াউল গ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে জামিল আহমদ (১৯)।
সহকারি পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মোঃ. জুনায়েদ আলম সরকারের নেতৃত্বে বড়লেখা থানার অফিসার ইন-চার্জ মোঃ. মনিরুজ্জামান পুলিশ ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে সোমবার ২৩ (মে) দিবাগত রাতে এদের গ্রেপ্তার করেন।
মঙ্গলবার (২৪ মে) বিকেলে মৌলভীবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের (৫নং আমলি আদালত) আদালতে গ্রেপ্তারকৃত ২ ডাকাত গৌছ উদ্দিন হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে দুই ডাকাত হত্যার কারণ ও অন্য সহযোগীদের নাম প্রকাশ করেছে।
জুড়ী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের (১০এপ্রিল) রবিবার রাতের কোন এক সময় ডাকাতি করা মালামালের ভাগ বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে দলের অন্যান্য সদস্যের হাতে খুন হন গৌছ উদ্দিন। খুন করার পর ডাকাত দলের সদস্যরা গৌছের লাশটি উপজেলার পালপাড়া এলাকার একটি ধান ক্ষেতে ফেলে যায়।
ঘটনার ২দিন পর (১২ এপ্রিল) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় পালপাড়ার বাসিন্দারা ধান ক্ষেতে এক যুবকের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে জুড়ী থানা পুলিশ উপজেলার পালপাড়া এলাকার ধান ক্ষেত থেকে অজ্ঞাত হিসেবে গৌছের লাশটি উদ্ধার করে। এইদিন ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ অজ্ঞাত হিসেবে লাশটিকে দাফন করে।
এ ঘটনায় থানার এসআই আক্তারুজ্জামান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
লাশ উদ্ধারের প্রায় এক মাস পর গৌছের স্বজনরা জুড়ী থানায় এসে ছবি ও কাপড় দেখে লাশটি গৌছের হিসেবে সনাক্ত করে। পরে গৌছের পরিবারের দেওয়া তথ্য মতে ও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে গৌছ উদ্দিন হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করে পুলিশ।
ঘটনার প্রায় দেড় মাসের মাথায় সোমবার পুলিশ বড়লেখা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মারুফ আহমদ ও জামিল আহমদকে গ্রেপ্তার করে।
সহকারি পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মোঃ জুনায়েদ আলম সরকার গৌছ উদ্দিন ডাকাত হত্যায় জড়িত দুই ডাকাত গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত দুজন আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকারে করে জবানবন্দি দিয়েছে। ডাকাতি করা মালামালের ভাগ বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।’
আপনার মন্তব্য