সিলেটটুডে ডেস্ক

১৭ জুন, ২০১৬ ১৭:২০

লাউয়াছড়ার ২৫ হাজার গাছ কাটার আবদার রেলওয়ের!

ছবি: সংগ্রহ

নির্বিঘ্নে ট্রেন চলাচলের জন্য ও দুর্ঘটনা এড়াতে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের রেললাইনের দুই পাশের গাছ কাটতে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এতে সংরক্ষিত এই বনাঞ্চলের ২৫ হাজারের বেশি গাছ কাটা পড়বে বলে জানিয়েছে ওই বিভাগ।

বিপুলসংখ্যক এই গাছ কাটা পড়লে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। তাদের ভাষ্য, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সরকারঘোষিত সংরক্ষিত এলাকা এবং এই বনাঞ্চল থেকে সব ধরনের গাছ কাটা ও অপসারণ নিষিদ্ধ।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ মো. আরমান হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি তাদের দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়েছে, ঢাকা-সিলেট রেললাইনের শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সেকশনের ২৯৩/১ থেকে ২৯৮/১ কিলোমিটারের পাহাড়ি এলাকায় ঝড়-বৃষ্টিতে গাছ উপড়ে ও ভেঙে রেললাইনের ওপর পড়ছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ও যাত্রীসাধারণের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ২১ এপ্রিল রাতে ঝড়ে ৩০-৩৫টি গাছ রেললাইনের ওপর ভেঙে পড়ে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। এ ছাড়া চলতি বছরের ৭ এপ্রিল রাতে ঝড়ে আরও ৩০টির মতো গাছ রেললাইনের ওপর পড়ে। এতে উপবন এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনের একটি হেডলাইট ভেঙে যায় ও ট্রেনটি আটকা পড়ে। এ অবস্থায় উদ্যান এলাকার রেললাইনের উভয় পাশের ন্যূনতম ৫০ ফুট পর্যন্ত গাছ কাটতে হবে। একইভাবে রেললাইনের রশিদপুর-সাতগাঁও বিভাগের ২৭১/২ থেকে ২৭৯/৭ কিলোমিটার পর্যন্ত উভয় পাশের গাছও কাটতে হবে। নইলে পরবর্তী সময়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ‘দ্য রেলওয়েজ অ্যাক্ট, ১৮৯০’-এর ১২৮ ধারা মোতাবেক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রেলওয়ের চিঠির জবাব দিয়েছেন বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মিহির কুমার দে। তিনি ১২ মে তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া উদ্যানটি ১৬৭ প্রজাতির বৃক্ষ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ীসহ অসংখ্য বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল। এর ভেতরে শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সেকশনের রেললাইনের ২৯৩/১ থেকে ২৯৮/১—এই পাঁচ কিলোমিটারের উভয় পাশে ৫০ ফুট এলাকার মধ্যে জরিপে দেখা গেছে, এখানে পাঁচ বছর থেকে শতবর্ষী ও তার অধিক বয়সী ২৫ হাজারের বেশি গাছ আছে। এ ছাড়া এই এলাকার প্রতি বর্গমিটারে আছে ২০টি করে চারাগাছ ও অন্যান্য লতাপাতা-ঝোপঝাড়। যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য বন্য প্রাণী বাস করে। এসব গাছ কাটা হলে বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

এই চিঠির পর ১৮ মে রেলওয়ে থেকে বন কর্মকর্তাকে পুনরায় চিঠি দিয়ে বলা হয়, রেলপথের উভয় পাশের গাছপালা কাটার অনুরোধ জানানো হলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে গাছগুলো না কাটলে রেলওয়ে আইন অনুযায়ী রেল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রেলওয়ের পক্ষ থেকে গাছ কাটার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকার বিভাগীয় প্রকৌশলী আরমান হোসেন তাঁর চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে রোববার বলেন, রেললাইনে গাছ পড়ে রেল চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই নিরাপদ দূরত্ব পর্যন্ত গাছ কাটতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে মিহির কুমার দে বলেন, বনের ভেতর দিয়ে রেললাইন থাকলে কিছু ঝুঁকি থাকবে। ঝুঁকি এড়ানোর জন্য রেললাইন শিফট করতে হবে। রেললাইনের পাশে বিপুলসংখ্যক ভালো গাছ আছে। এসব গাছ কাটা হলে পরিবেশ, উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হবে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় চিঠির জবাব এখনো দেওয়া হয়নি। সরকারি গাছ চাইলেই কাটা যাবে না। সুত্র : প্রথম আলো

আপনার মন্তব্য

আলোচিত