২০ জুন, ২০১৬ ১৭:২৭
টেবিলে কায়দা করে কাপড় বিছানো। তারপর কচকচ করে কাটা হচ্ছে। পাশেই সেলাই মেশিনের খরখর শব্দ। অন্যদিকে পোশাক বানাতে ব্যস্ত দর্জি কারিগররা। নিপুণ হাতে থান কাপড় কেটে সেলাই করে তা পড়ার উপযোগী করে তৈরী করছেন দর্জি রুবেল মিয়া। স্থানীয়ভাবে তিনি টেইলার হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এই নতুন থান কাপড়কে যারা সুন্দর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরী করেন কে রাখে তাদের খবর! তারা থেকে যায় পর্দার আড়ালেই।
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে নতুন জামা কাপড় তৈরীতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন বানিয়াচং উপজেলার সদরের দর্জি কারিগররা। তাদের হাতে যেন মোটেও সময় নেই। কেননা নির্দিষ্ট সময়ের আগে পোশাক তৈরী করে তা ডেলিভারি দিতে হবে। পছন্দের পোশাক বানাতে দর্জির দোকানগুলোতে ভীড় করছেন শৌখিন ক্রেতারা। ঈদকে সামনে রেখে পাঁচটি বাজারে প্রায় অর্ধশতাধিক দর্জির দোকানে সকাল থেকে শুরু করে রাতদিন ২৪ ঘন্টা চলছে সেলাইয়ের কাজ।
তাদের যেন দম ফেলার ফুরসৎ নেই। কেউ মাপ নিচ্ছে, কেউ কাপড় কাটছে, কেউ আবার তা সেলাই করছে, কেউ বা তাতে বোতাম লাগিয়ে ইস্ত্রি করে অর্ডার বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আর এইসব কাজ সময়মতো দেয়ার জন্য দর্জিরা অতিরিক্ত লোক নিয়োগ দিয়েছেন। দোকানগুলোতে নারী পুরুষ উভয়ের কাপড় তৈরী করতে আসছেন ক্রেতারা। কারণ একটাই কেনা পোশাকের চাইতে বানানো পোশাক ভাল হয় তাই দর্জির দোকানে আসা।
দর্জির দোকানে আসা নাজমা আক্তার নামে এক ক্রেতা জানান, ঈদকে সামনে রেখে থ্রি-পিস সেলাই করতে দর্জির দোকানে এসেছি। কারণ একটাই দর্জির দোকান থেকে কাপড় সেলাই করলে সেই কাপড় ফিটিং ভালো হয় আবার পড়তেও আরাম লাগে। সবুজ আহমেদ নামের আরেকজন জানান, ঈদের সময় সবাই চায় নতুন জামাকাপড়। রেডিমেড দোকানে একই নকশার অনেক পোশাক থাকে। তাই নিজের পছন্দের মতো কাপড় কিনে দর্জির দোকানে বানাতে দেই।
ঈদকে সামনে রেখে জামাকাপড় কিনতে আসা ফাহমিদা বেগম জানান, প্রতিবছর ঈদে আমি দোকান থেকে কাপড় কিনে তা দর্জির দোকানে বানাতে দেই। কিন্তু বাহিরের দোকানগুলোতে কাপড়ের দাম একটু বেশী হয়। আবার দর্জিরাও গত বছরের চাইতে মজুরি ১০০ টাকা বেশী চাচ্ছে। যদি দামটা একটু কম থাকত তাহলে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ভাল হত। তবে দর্জিরা বলছেন গত বছরের তুলনায় এ বছর অর্ডার বেশী হওয়ায় মজুরি একটু বেশি নিতে হচ্ছে।
বিভিন্ন কাপড়ভেদে সেলাই বাবদ ২৫০-৩৫০টাকা মজুরি নিচ্ছেন দর্জিরা। এই অর্ডার সময়মতো দিতে সরবরাহ করতে অতিরিক্ত লোক নিয়োগ দিয়েও হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে ১৫ রোজার পর আর অর্ডার নিবেননা বলে জানিয়েছেন দর্জিরা।
দর্জি শামিম হাসান, আব্দুস সালাম, মহু মিয়াসহ অনেকে জানান দর্জির দোকানে পুরুষের চেয়ে মহিলারাই বেশী আসছেন। তাই আমরা কাউ কেউই ফিরিয়ে দিচ্ছিনা কারণ সামনে ঈদ।
বানিয়াচং নতুনবাজারের চয়েস টেইলার্সের মালিক আব্দুস সালাম জানান, ঈদ উপলক্ষে আমাদের অর্ডার ভালোই। তবে ১৫ রোজার পরে অর্ডার নেবোনা। আগে যে অর্ডারগুলো নিয়েছি সেটার কাজগুলোই শেষ করতে পারি কিনা তা নিয়ে সংশয়ে আছি।
আপনার মন্তব্য