২৪ জুন, ২০১৬ ১৬:৫৬
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা ও বিশ্বনাথ থানার মধ্যবর্তী স্থান থেকে শুক্রবার সকালে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আখলিসুর রহমান জালাল (২৮) নগরীর শুকরিয়া মার্কেটে দর্জির কাজ করতেন। তার বাড়ি বিশ্বনাথের তাজমহরম গ্রামে।
দুই থানার মধ্যবর্তী আলীনগর নামক এলাকার সড়কের পাশ থেকে জালালের মরদেহ উদ্ধার করে দক্ষিণ সুরমা থানা পুৃলিশ। এসময় তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলো। দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করলেও ঘটনাটি বিশ্বনাথ থানা এলাকায় ঘটেছে বলে দাবি তাদের। তাই এ ঘটনায় কোনো মামলাও নিতে চাচ্ছে না দক্ষিণ সুরমা থানা। অপরদিকে বিশ্বনাথ থানা পুলিশের দাবি, ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকায়। ফলে এ ঘটনায় কোনো দায় নিচ্ছে না তারা।
এদিকে, দুই থানার এই ধাক্কাধাক্কিতে বিপাকে পড়েছে নিহতের পরিবার। কোনো থানাই দায় না নেওয়ায় নিহতের দাফন সম্পন্ন করতে পারছে না পরিবার। বেলা সাড়ে ৪ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের দাফন করা হয়নি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১২ টার দিকে একটি ফোন কল পেয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে আসেন জালাল। এরপর আর তিনি বাসায় ফিরেন নি। ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে আলীনগর রাস্তার পাশে তার খণ্ডিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী। পরে পুলিশকে খবর দিলে বিশ্বনাথ ও দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়।
এসময় দুই থানার পুলিশই সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক জড়িয়ে পড়ে। দুই থানার পক্ষ থেকেই দাবি করা হয় 'অন্য থানা এলাকায়' মরদেহ পাওয়া গেছে। এই বিতর্কের এক পর্যায়ে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
তবে ময়না তদন্তের আগেই হাসপাতাল এলাকা থেকে চলে যায় দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ।
নিহতের ভাই হেলাল আহমদ সিলেটটুডে টোয়েন্টফোর ডটকমকে বলেন, দুই থানার কোনোটিই এই ঘটনায় মামলাও নিতে চাচ্ছে না। আমরা এক থানায় গেলে, পুলিশ অন্য থানায় যেতে বলে। কোনো থানাই দায় না নেওয়ায় আমরা এখন পর্যন্ত মরদেহ দাফন করতে পারছি না।
এ ব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই বলেন, আখলিসুর রহমান জালালের বাড়ি বিশ্বনাথে হলেও তার মরদেহ দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাই নিহতের পরিবারকে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা করতে বলেছি।
তবে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, আমরা মরদেহটি উদ্ধার করলেও ঘটনাটি ঘটেছে বিশ্বনাথ থানা এলাকায়। ফলে ওই থানায়ই মা্মলা করতে হবে।
আপনার মন্তব্য