তপন কুমার দাস, বড়লেখা

০১ জুলাই, ২০১৬ ২১:৪৬

বড়লেখায় রোগ সারানোর নামে ‘তান্ত্রিকের’ অদ্ভূত প্রতারণা!

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গ্রামের এক নারীকে ধর্মের মা ডেকে অসুখ সারানোর নামে ৪ তোলা স্বর্ণ নিয়ে উধাও হয়ে গেছে মামুন নামের এক সাপুড়ে। গত (২৬ জুন) রবিবার উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের তালিমপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে।  বুধবার সালিমা বেগম স্থানীয় লোকজনের এ প্রতারণার বিষয়টি জানান।

প্রতারণার শিকার হওয়া বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২৫ জুন উপজেলার তালিমপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের বাড়ি থেকে সাপুড়ে মামুন কয়েকটি বিষাক্ত সাপ ধরে। পরদিন ২৬ জুন সে পুনরায় গিয়াস উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে গৃহকর্তী সালিমা বেগমকে ধর্মের মা ডেকে তার শরীরে বিভিন্ন কঠিন রোগ রয়েছে বলে জানায়। নিজেকে বড় তান্ত্রিক সাধক দাবি করে সাপুড়ে মামুন অসুখ সারানোর অনুমতি চায়।

সরল বিশ্বাসে সালিমা বেগম ও তার স্বামী তাকে দিয়ে চিকিৎসা করাতে রাজি হন। তখন সাপুড়ে মামুন জানায়, এ কঠিন রোগ সারাতে ৪ তোলা স্বর্ণ জোগাড় করতে হবে। কম কিংবা বেশি হলে হবে না। সাপুড়ের কথায় গৃহকর্তা ৪ তোলা স্বর্ণ যোগাড় করলে প্রতারক মামুন তাদের চোখ বন্ধ করতে বলে।

এসময় সে স্বর্ণগুলো একটি সাপের সাথে হাড়ির ভিতর বেঁধে রাখে। চোঁখ খোলার পর সে গৃহকর্তা ও গৃহকর্তীকে হাড়িটি ঘরের ভিতর রাখতে বলে। হাড়িটি ঘরে রাখার পর কথিত তান্ত্রিক সাধক মামুন পরদিন হাড়ি থেকে সাপ বের করে দেবে ও স্বর্ণগুলো গৃহকর্তার হাতে তুলে দেয়ার কথা বলে চলে যায়।

 সোমবার (২৭ জুন) রাত পর্যন্ত না আসায় সাপুড়ে মামুনকে ফোন দিলে সে জানায়, সাপটি রাগ করেছে। সে আসলে তাকে মেরে ফেলবে। তাই তাড়াতাড়ি সাপ ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে। তার কথায় গিয়াস উদ্দিন ও তার স্ত্রী ঘর থেকে হাড়ি বের করে সাপটি ছেড়ে দেন। এরপর তারা স্বর্ণের বেঁধে রাখা পুটলিটি খোলে দেখেন তাতে স্বর্ণ নেই। স্বর্ণের বদলে রয়েছে পাথর। এরপর তারা নিশ্চিত হন প্রতারণার শিকার হয়েছেন।   

গৃহকর্তী সালিমা বেগম বলেন, ‘আমাকে ধর্মের মা ডাকায় আমি সরল বিশ্বাসে স্বর্ণ দিয়ে দেই। আমরা যখন চোঁখ বন্ধ রাখি তখন কৌশলে সে স্বর্ণগুলো সরিয়ে নেয়। এখন তার দেয়া নম্বরে ফোন করলে সে রিসিভ করে না।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত