অরণ্য রণি

০৪ জুলাই, ২০১৬ ২০:৫৭

কদর বাড়ছে দেশী পোষাকেরও

একটা সময় ছিলো যে কোনো উৎসবেই ভারতীয় কাপড়ের দিকে ঝুঁকতেন ক্রেতারা। ফলে আমাদের কাপড়ের বাজারের পুরোটাই ছিলো ভারতের দখলে। এখনো ভারতীয় পোষাকের আধিপত্য রয়েছে। তবে দেশী পোষাকের কদরও বাড়ছে।

জানালেন নগরীর জিন্দাবাজারের দেশীয় পোষাকের দোকান স্লোগান'র কর্ণধান উজ্জ্বল চক্রবর্তী। উৎসবে ক্রেতারা এখন দেশীয় পোষাকের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন বলে জানান তিনি।

নগরীর বারুতখানা পয়েন্টে অবস্থিত দেশী কাপড়ের ব্র্যান্ড 'রঙ'। রঙ এর ব্যাবস্থাপক মো হাবিবুর রহমান সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোরকে বলেন, তাদের শো-রুমে বিক্রি ভালোই হচ্ছে। দেশীয় কাপড়ের প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ অনেক বেড়েছে।
গতবারের থেকে এবার বিক্রি ভালো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এখানে ছেলেদের পোশাকের মধ্যে পাঞ্জাবী, ফতুয়া, শার্ট ও টি-শার্ট রয়েছে। বয়ষ্কদের জন্য রঙ এর একটি অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান হচ্ছে 'শ্রদ্ধা'।

আর তরুণদের জন্য রঙ এর 'ফেইস রঙ'। ফেইস রঙ একটু পশ্চিমা ধাচের ডিজাইনের কিন্তু সম্পূর্ণ বাংলাদেশী কাপড় দিয়ে তৈরী করা।

রঙ এর পাঞ্জাবীর কালেকশনে সুতি পাঞ্জাবীকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে বেশি কারণ এবার ঈদ পড়েছে বর্ষাকাল ও গরমের সময়ে। নরমাল কটন, আদ্দি কটন ও অ্যান্ডি কটনের পাঞ্জাবী বেশি। সিল্কের মধ্যে আছে জয়শ্রী সিল্ক।

পাঞ্জাবীর মূল্য ১০০০-৫০০০ টাকা পর্যন্ত। টি-শার্ট এর মূল্য ৪৫০-৯৫০ টাকা। শার্ট ও ফতুয়ার মূল্য ৭০০-১২০০ টাকা।

শাড়ির মধ্যে আছে তাঁত শাড়ি, সুতি শাড়ি, সিল্ক, অ্যান্ডি সিল্ক, মসলিন। তাঁত শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৯০০-৫০০০ টাকা পর্যন্ত। সুতি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫০-৪০০০ টাকায়। এছাড়াও সিল্ক, অ্যান্ডি সিল্ক, মসলিনের শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৫০০০-২০০০০ টাকা পর্যন্ত।

ড্রেসের মধ্যে সিংঙ্গেল কামিজ ১০০০-৪০০০ টাকা, টু পিস ২০০০-৪০০০ টাকা, থ্রী পিস ২০০০-৬০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া আনরেডি ড্রেসও পাওয়া যায় 'রঙ' এ।

এছাড়াও লুঙ্গি, গেঞ্জি, ছোট বাচ্ছাদের কাপড়ও পাওয়া যায় এখানে। এছাড়া মেয়েদের দেশী জুয়েলারি ও ঘর সাজানোর টুকিটাকি জিনিষও পাওয়া যায় এই ফ্যাশন হাউজটিতে।

সর্বমোট দশটি বিখ্যাত দেশী ব্র্যান্ডের সমন্বয়ে কুমারপাড়ায় অবস্থিত 'দেশী দশ' এর শো-রুম।

অঞ্জন'স, সাদাকালো, রঙ, নিপুণ, কে-ক্রাফট, বাংলার মেলা, নগরদোলা, বিবিয়ানা, দেশাল, সৃষ্টি এই দশটি ব্র্যান্ডের অপূর্ব সমাহার 'দেশী দশ' এ।

অঞ্জন'স, সাদাকালো, নগরদোলা, বিবিয়ানা, এর ব্যবস্থাপকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ সকল ব্র্যান্ডের ক্রেতা গতবারের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম। প্রত্যাশিত ব্যবসা হচ্ছে না।

এর কারণ হিসেবে ব্যবস্থাপকরা বলছেন, টানা সরকারি ছুটি, বিরুপ আবহাওয়া, অর্থনৈতিক মন্দা ও প্রবাসীদের রেমিটেন্স কম আসা।

অঞ্জন'স এর সহকারি ব্যবস্থাপক আশরাফুল কবির বলেন, ড্রেস বিক্রি হচ্ছে ২৪০০-১০০০০ টাকায়। পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে, ৭৯৫-৪০০০ টাকায় শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ২৪০০-১০০০০ টাকায়।

সাদাকালোর ব্যবস্থাপক মাহি উদ্দিন রাজু বলেন, শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ১৪০০-১৪০০০ টাকা, পাঞ্জাবি ৯৮০-১৯০০ টাকায়, থ্রিপিস ১৬০০-২৪০০ টাকায়।

নগরদোলার ব্যবস্থাপক তারেকুল ইসলাম বলেন, পাঞ্জাবী, শাড়ি, থ্রিপিস, সিঙ্গেল কামিজ, বেবী আইটেম, হাউজহোল্ড ও ক্রাফট আইটেম তারা বিক্রি করেন। আর তাদের মুল্যগুলোও সবার সাধ্যের মত।

বিবিয়ানার ব্যবস্থাপক ইমরান হোসেন বলেন, তাদের হাউজে থ্রিপিস বিক্রি হচ্ছে ৩০০০-৪০০০ টাকায়। সিঙ্গেল কামিজ ১০০০-১৮০০ টাকায় ও টপস ৭৫০-১৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কে-ক্রাফট এর সেলস এক্সিকিউটিভ মোঃ রাসেল ও বাংলার মেলার ব্যবস্থাপক সমর কান্তি রায় সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোরকে বলেন, গতবারের তুলনায় তাদের প্রোডাক্টগুলো ভালো বিক্রি হচ্ছে। সকাল ১১টা থেকে রাত ৩ টা পর্যন্ত ক্রেতাদের ভীড় থাকে তাদের শো-রুমে। গতবারের থেকে বেশি সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তারা তাদের প্রত্যাশার থেকেও বেশি ক্রেতা পাচ্ছেন।

কে-ক্রাফটে থ্রিপিস বিক্রি হচ্ছে ২৫০০-৪০০০, পাঞ্জাবি ১০০০-৫০০০ টাকা। বেবি আইটেম ৪৫০-২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাংলার মেলায় পাঞ্জাবি ৯৫০-৪৫০০ টাকা, থ্রিপিস ৮৫০-৬০০০ টাকা শার্ট ৫০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়াও এখানে ঘর সাজানোর জিনিষ, বেডশীট, ফতুয়া ও লুঙ্গিও পাওয়া যায়।

জিন্দাবাজারের রাজা ম্যানশন ফ্যাশন হাউজ 'স্লোগান'র'স ব্যাবস্থাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্য জানান, স্লোগানে পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে ৭৮০-১২৫০ টাকা, ফতুয়া ৫৮০-৮৫০ টাকা, টি-শার্ট ২৪০-৩২০ টাকা, জিন্স ৬৮০-৯৫০ টাকা ও থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত