দেবকল্যান ধর বাপন

০৫ জুলাই, ২০১৬ ০১:৩৮

রাত হলেই অন্ধকার নেমে আসে নগরীর তিন সেতুতে

নগরীর কীনব্রিজ আর শাহজালাল সেতুর বেশির সড়ক বাতিই নষ্ট। নবনির্মিত কাজির বাজার সেতুরও একই অবস্থা। বেশিরভাগ বাতি নষ্ট হয়ে পড়েছে। ফলে রাত হলেই ভূতুড়ে অন্ধকার নেমে আসে সুরমা নদীর উপর নির্মিত নগরীর এই তিন সেতুতে।

বর্ষা মৌসুমে বাতি না থাকায় এই সেতুগুলো দিয়ে পারাপারকারী যাত্রী ও চালকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। কাজির বাজার সেতুতে সন্ধ্যা হলে ঘুরতে আসেন অনেকে। সড়ক বাতি বিকল থাকায় এই ভ্রমণ পিপাসুরাও পড়েন বিপাকে। এছাড়া ছিনতাইকারীর উপদ্রবও রয়েছে।

রোববার রাতে নগরীর শেখঘাটে নবনির্মিত কাজিরবাজার সেতুতে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর উত্তর অংশে কিছু বাতি জ্বললেও দক্ষিণ অংশের সবগুলো বাতিই বিকল হয়ে পড়েছে। ফলে সেতুর দক্ষিণ অংশ দিয়ে অন্ধকারের মধ্যেই যাত্রীদের চলাচল করতে হচ্ছে। নির্মল বাতাসের জন্য সেতুতে ঘুরতে আসা তরুণ-তরুণীরা ভয়ে ওই পাশে যেতে চান না।

কাজির সেতুর পার হয়ে একটু এগিয়ে রেলক্রসিংয়ের সামনেই অন্ধকারে পুলিশের চেকপোস্ট। টর্চের আলোতে তল্লাশি চালাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় কথা হয় দক্ষিন সুরমা থানার এস আই আলী হোসেনের সাথে। সড়কবাতি না থাকায় কাজে ব্যাঘাত ঘটছে জানিয়ে তিনি বলেন " কি করার আছে ভাই? এমনিতেই দেশের এই পরিস্থিতিতে পুলিশকে খুব এলার্ট থাকতে হয়। প্রতিটি গাড়ি তল্লাশি করতে হচ্ছে, সন্দেহজনক হলে লোকজনের শরীর তল্লাশিও করতে হচ্ছে। কিন্তু সড়কবাতি না থাকায় পুরো এলাকা অন্ধকার, টর্চের আলোতে কতোটুকু নির্ভুল কাজ করা সম্ভব?"

তিনি বলেন, ''এলাকাটা অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়ায় ছিনতাইকারী সনাক্ত করাটা দুরূহ হয়ে পড়েছে, তাই মাঝেমধ্যে দু'একটা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। "

একই চিত্র দেখা যায়, নগরীর শাহজালাল সেতু ও কীনব্রীজে গিয়েও। বেশিরভাগ সড়ক বাতিই নষ্ট অবস্থায় রয়েছে। বাতি না জ্বলায় অন্ধকার হয়ে আছে পুরো সেতু। অন্ধকারের মধ্যে যান চলাচল করছে।

সেতুর উপর হাতে গোনা কয়েকটি বাতি জ্বললেও সেতুর দুপাশের সংযোগ সড়কে দাঁড়িয়ে আছে শুধু  কয়েকখানা ল্যাম্পপোস্ট কিন্তু তাতে কোন আলোর দেখা মিলেনি।

এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সেতুগুলোর বাতি নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে আমি অবগত নই। এই ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত