০৫ জুলাই, ২০১৬ ১৬:২৩
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ছাত্রলীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন নিয়ে চলছে লুকোচুরি খেলা। ১৮ বছর পর উপজেলার বহু প্রতীক্ষিত ছাত্রলীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের ৯ই এপ্রিল আভাস পেয়ে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল তরুণ প্রজন্মের উদীয়মান নতুন নেতাকর্মীদের মাঝে। কিন্তু এ পর্যন্ত ৪ বার সম্মেলনের তারিখ পেছানো হয়েছে নানা কারণ দেখিয়ে। এখন উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন হবে কি না এই নিয়ে নেতাকর্মীদের ধোঁয়াশা কাটছে না।
জানাযায়, বহু চড়াই উতরাই পেরিয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর পর ছাত্রলীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের আভাস পেয়ে উপজেলা জুড়েই বিরাজ করছিল উৎসবের পরিবেশ। সম্মেলনের প্রথম তারিখ ঘোষণা করা হয় ৯ই এপ্রিল। তারপর ১৩ই এপ্রিল, ২৩শে এপ্রিল এবং সর্বশেষ ১৫মে তারিখ নির্ধারণ করা হলেও সম্মেলন হয় নি। বারবার সম্মেলন পেছানোর কারণে হতাশ ও ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। ১৯৯৮ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সর্বশেষ ৭১ সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়। এর পর একাধিক বার উপজেলায় কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিলেও কমিটি গঠন হয় নি। সেই কমিটির এখনোও বলবত রয়েছে। কমিটির নেতাকর্মীরা এখন হয়েছেন ছেলে-মেয়ের বাবা, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ সরকারী চাকরিজীবী। তারা এখন নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত।
এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে ছাত্রলীগের সট ও যোগ্য প্রার্থী থাকলেও উপজেলা আ'লীগের বিবাদমান গ্রুপ তাদের বলয়ের লোক দিয়ে কমিটি গঠনের জন্য ছাত্রলীগের নামধারী অযোগ্য, পরিবারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখার জন্য তোড়জোড় শুরু করায় আলোচনা-সমালোচনার জন্ম হয়েছে তৃনমূল নেতাকর্মীদের মাঝে। নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মীরা ক্ষোভের সাথে এ কথা জানান।
ছাত্রলীগের সভাপতির পদপ্রার্থী হিসেবে আছেন আহসানুজ্জামান শোভন, উত্তম পুরকাস্ত, পথিক হাসান নবী, শাহ নাজুল ইসলাম শিকদার, সাগর ভট্টাচার্য, তানসেন তালুকদার তুশার। সাধারণ সম্পাদক পদে আবুল বাসার খাঁন নয়ন, ইয়াসির আরাফাত অপু তালুকদার, দেলোয়ার হোসেন, রাজন চন্দ্র, কাশেম। সাংগঠনিক পদে দীমান চন্দ্র, নাজির আহমেদ প্রমুখ।
উপজেলা ছাত্রলীগের তৃনমূল নেতাকর্মীরা বলেন উপজেলায় এমপির সমর্থক ও এমপি বিরোধীদের মাঝে গ্রুপিংয়ের কারণে তাহিরপুরে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন,ছাত্রলীগ ও আ'লীগের কোন উন্নয়ন হচ্ছে না। যার জন্য এবার ইউপি নির্বাচনে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ৩জন। ফলে এবার ইউপি নির্বাচনে ৪টি ইউনিয়নে ভরাডুবি হয়েছে আ'লীগের। ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত করার দাবী জানান তাঁরা।
তাহিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক (সভাপতি পদপ্রার্থী) আসানুজ্জামান শোভন বলেন, আমি তাহেরপুর উপজেলা ছাত্রলীগ কে সংগঠিত করতে সব সময় প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সবাই সম্মেলন নিয়ে শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নির্দেশের অপেক্ষায় আছি। আমি শীর্ষ নেতৃবৃন্দের কাছে জোরালো দাবী জানাই দ্রুত তাহিরপুর উপজেলা সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগের মাঝে প্রাণের সঞ্চার করার জন্য।
তাহিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা (সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী) আবুল বাসার খাঁন নয়ন ও ইয়াসির আরাফাত অপু তালুকদার বলেন, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত কে শক্তিশালী করতে ও তাহিরপুরের ছাত্রলীগের মাঝে প্রাণের সঞ্চার ও উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত ছাত্রলীগের সম্মেলন হওয়া খুবেই জরুরী।
সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, তাহিরপুর উপজেলার ছাত্রলীগের সম্মেলন নানান কারণে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নির্দেশে তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই র্শীষ নেতৃবৃন্দের দেওয়া নতুন তারিখে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। নতুন কমিটিতে যারা আসবে তারা দেশনেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শে ও উন্নয়নে বিশ্বাসী ছাত্রলীগের সুনাম রক্ষা করবে ও দল কে সুসংগঠিত করবে।
বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন জানান, ঈদের পর পরেই সম্মেলনের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হবে। পরে জেলার প্রতিটি উপজেলার কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে।
আপনার মন্তব্য