২৪ ডিসেম্বর, ২০১৪ ১৮:০৯
শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি শুকিয়ে লাঘাটা নদীতে মাছ শিকার
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কেওলার হাওরে
লাঘাটা নদী শুকিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন,
বোরো সেচ ছাড়াও নদীতে বাঁধ দিয়ে শ্যালো মেশিনে
পানি শুকিয়ে মাছ শিকার, বর্ষায় বাঁশের খাঁটি (বেড়া), কারেন্ট
জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে। যার দরুন
অস্থিত্ব হারাচ্ছে লাঘাটা নদী। ফলে ধ্বংস হচ্ছে
জাতীয় মৎস্য সম্পদ। বিপর্যস্ত হচ্ছে জলজ জীববৈচিত্র্য। মাছ শিকার করার অভিযোগ পেয়ে সোমবার উপজেলা মৎস্য
কর্মকর্তা অভিযান চালিয়ে দু’টি শ্যালো
পাম্প মেশিন জব্দ করেছেন।
জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের
কেওলার হাওরের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া
লাঘাটা নদীর কমলগঞ্জ ও রাজনগর অংশে ঝোপ-জঙ্গলে ভরপুর হয়ে উঠেছে। এই নদীকে কেন্দ্র করে শত শত হেক্টর জমিতে বোরো ও
সবজি আবাদ করা হয়। এছাড়াও লাঘাটা
নদী থেকে কমলগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য প্রাকৃতিক মাছ আহরণের জন্য নদীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন করছে। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে
লাঘাটা নদীতে স্লুইসগেট ও ক্রস বাঁধ নির্মিত হচ্ছে। ফলে নদীর গতি প্রবাহে ও মৎস্য প্রজননে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং
নিম্নাঞ্চল এলাকার কৃষকরা সেচ
সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে পতনঊষার অংশের কেওলার হাওরসহ লাঘাটা নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে চলছে বালু
উত্তোলন। নদীতে বাঁধ দেয়ার পর
পানি কমে যাওয়ায় উপজেলার রুপষপুর, পতনঊষার,
মাইজগাও ও ধোপাটিলা গ্রামের কতিপয়
লোকজন নদীতে খন্ডাংশ করে শ্যালো মেশিনে পানি শুকিয়ে মাছ শিকারের হিড়িক শুরু করেছে। ফলে কৃষি চাষাবাদ, মৎস্য
সম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের অভাবনীয়
ক্ষতি বয়ে আনছে। বিপর্যস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশের। শ্যালো মেশিন দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ পেয়ে সোমবার উপজেলা
মৎস্য কর্মকর্তা নদী থেকে দু’টি
শ্যালো পাম্প মেশিন জব্দ করেছেন। মৎস্য কর্মকর্তা আরও বলেন, মৎস্য সম্পদ আইন অমান্য করে এভাবে নদী শুকিয়ে মাছ
শিকারের ফলে মাছের প্রজনন ধ্বংসপ্রাপ্ত
হবে। নদীও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আপনার মন্তব্য