নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:৫৬

আবার কলেজে যেতে চাই, নির্যাতিত নারীদের জন্য কাজ করতে চাই : খাদিজা

আক্রান্ত হওয়ার এক বছর পেরিয়েছে। তবু এখনো পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেননি খাদিজা বেগম। তবু তাঁর দু’চোখ ভরা স্বপ্ন। আবার কলেজে ভর্তি হতে চান। ব্যাংকার হতে চান। নারীদের কাজ করতে চান।  

সোমবার সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাথে আলাপকালে খাদিজা বেগম বলেন, ‘কলেজের স্যারদের সাথে কথা হয়েছে। তারা আবার ভর্তি হতে বলেছেন। কিন্তু আমি বেশিক্ষণ কিছু পড়তে পারি না। মাথায় প্রচন্ড ব্যথা হয়। তাই আগামী সেশন থেকে কলেজে ভর্তি হবো। পড়ালেখা শেষ করে আমি ব্যাংকার হতে চাই।’

খাদিজা বলেন, আর যেনো কোনো মেয়ে আমার মতো হামলার শিকার না হয়। এজন্য মেয়েদের প্রতিবাদী হতে হবে। স্বোচ্ছার হতে হবে। সুস্থ হয়ে আমি অসহায় ও নির্যাতিত নারীদের জন্য কাজ করতে চাই।  

সোমবার দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার হাউসা গ্রামের খাদিজাদের বাড়িতে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।

এখনো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটেন খাদিজা। বাঁ হাতের আঙ্গুলগুলো সোজা করতে পারেন না। এই হাত দিয়ে কোনো কাজও করতে পারেন না। মাথায় ব্যথা লেগে থাকে সর্বক্ষণ। প্রায়ই স্মৃতিবিভ্রাট ঘটে। পুরনো কথা মনে করতে পারেন না। হাতের আঙ্গুলের জন্য প্রয়োজন আরেকটি অস্ত্রোপচার। শীঘ্রই তা করা হবে বলে জানিয়েছেন খাদিজার চাচা আব্দুল কুদ্দুস।

গত বছর ৩ অক্টোবর সিলেটের এমসি কলেজে হামলার শিকার হন সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের স্নাতক শ্রেণীর ছাত্রী খাদিজা বেগম। এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হন তিনি। হামলায় তার মাথার খুলি ভেদে করে মস্তিষ্কও জখম হয়।

খাদিজাকে কোপানোর একটি ভিডিওক্লিপ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হামলার বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামে বিভিন্ন সংগঠন।

গত ৮ মার্চ খাদিজা বেগম হত্যাচেষ্টা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালত। বদরুল এখনো সিলেট কারাগারে আছেন। কারাগারের ভেতরের হাসপাতালে নিবন্ধনকারীর কাজ পেয়েছন বদরুল।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত