সিলেটটুডে ডেস্ক

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:৪০

নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ‘ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো’ চালু করা হচ্ছে

সিলেট চেম্বারে রপ্তানি বাণিজ্যে নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা বিষয়ক কর্মশালা

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেক্টিভিটি প্রজেক্ট-১ এবং দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে রপ্তানি বাণিজ্যে নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং বাংলাদেশ ট্রেড পোর্টালের উন্নয়ন বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট চেম্বারের কনফারেন্স হলে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে আমলাতান্ত্রিক বাঁধাগুলো প্রথমে দূর করতে হবে। তাহলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নারীদের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।

সিলেট চেম্বারের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. হামিদুর রহমান খান। কর্মশালায় প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেক্টিভিটি প্রকল্প-১ এর পরিচালক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. হেমায়েত উদ্দিন, প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. মো. মাহমুদুর রহমান ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের কনসালটেন্ট ফুয়াদ এম খালিদ হোসেন।

বক্তব্য রাখেন সিলেট চেম্বারের পরিচালক মো. হিজকিল গুলজার, সুনামগঞ্জ চেম্বারের পরিচালক জি.এম. তাসহিজ, সিলেট উইমেন চেম্বারের সভাপতি স্বর্ণলতা রায়।  

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. হামিদুর রহমান খান বলেছেন, জনসংখ্যার শতকরা ৫০ ভাগ নারীকে পেছনে রেখে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা টিকিয়ে রাখতে হলে রপ্তানি বৃদ্ধি ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। আর এক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নারী উদ্যোক্তাদের কীভাবে রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করতে পারি সেজন্যেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। নারী উদ্যোক্তারা যাতে সহজে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বিরাজমান বাঁধাগুলো অতিক্রম করতে পারেন সেজন্য 'ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো' করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের ৩৯টি সংস্থা ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে জড়িত। একজন নারী উদ্যোক্তা যাতে সবগুলোতে যেতে না হয় সেজন্যেই ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো চালু করা হচ্ছে।

কর্মশালায় বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেক্টিভিটি প্রকল্প-১ এর উপর সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. হেমায়েত উদ্দিন।

তিনি বলেন, ৪টি সেক্টরে পাইলটিংয়ের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে এই প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভাগীয় সদরগুলোতে সেমিনার ও কর্মশালার মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের মতামত নেওয়া হবে। এর অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে বাঁধাগুলো দূরীকরণ, মহিলাদের জন্য আলাদা ডেস্ক স্থাপন এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ট্রেড পোর্টালের উন্নয়ন ও জাতীয় অনুসন্ধান কেন্দ্র স্থাপন।

তিনি জানান, ট্রেড পোর্টালের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাবেন।

বিআরসিপি-১ এর প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, নির্দিষ্ট ৪টি প্রকল্পে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কারিগরি সহায়তা দেবে এই প্রকল্প। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে এগ্রো প্রসেসিং, আইসিটি, বুনয়ন শিল্প ও তাজা ফুল প্রসেসিং প্রকল্প। সরকারের পলিসি হচ্ছে ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট-ওয়ান প্রোডাক্ট’। এর মধ্যে সিলেট অঞ্চলকে আইসিটির জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।  

সভাপতির বক্তব্যে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, সিলেট আইসিটি এবং পর্যটনের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় স্থান। এই সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্টকরণ ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে হলে রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। সম্প্রতি সিলেট চেম্বারের দাবীর প্রেক্ষিতে সিলেট-ঢাকা-সিলেট রুটে সান্ধ্যকালীন ফ্লাইট চালুর ফলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় পিছিয়ে থাকার কারণে আমরা পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে পারছি না।

তিনি জানান, চেম্বারে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সেল রয়েছে। ব্যাংকসহ অন্যান্য সংস্থা এগিয়ে আসলে নারী উদ্যোক্তারাও তাদের ব্যবসা প্রসারিত করতে পারবেন।

কর্মশালায় সিলেট বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তাগণ অংশ নেন। অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি মাসুদ আহমদ চৌধুরী, সহসভাপতি মো. এমদাদ হোসেন, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহসভাপতি হুরায়রা ইফতার হোসেন, পরিচালক রাজিব ভৌমিক, কাস্টমস এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কমিশনারেট সিলেট এর সহকারী কমিশনার আহমেদুর রেজা চৌধুরী, তামাবিল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক পার্থ ঘোষ, উদ্যোক্তা জয়নুল আক্তার চৌধুরী, বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেরস এসোসিয়েশননের ডেপুটি সেক্রেটারি শাহনাজ বেগম পান্না, নারী উদ্যোক্তা রাশিদা আক্তার ও সাইদুল হাসান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট চেম্বারের পরিচালক পিন্টু চক্রবর্তী, চন্দন সাহা, আলহাজ্ব মো. আতিক হোসেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেক্টিভিটি প্রকল্প-১ এর কর্মকর্তাবৃন্দ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত