কমলগঞ্জ প্রতিনিধি

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৮:০৯

কমলগঞ্জে জাল দলিল তৈরি করে জমি রেজিস্টারি করায় মামলা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জমির ভুয়া মালিক সাজিয়ে জাল দলিল তৈরি করে ২৪ শতাংশ জমি রেজিস্টারি করার অভিযোগে আদালতে নালিশা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমলগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনায় জাল দলিলও জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের পরানধর গ্রামে।

মৌলভীবাজারের সিনিয়র বিচারিক হাকিম আদালতে করা জমির প্রকৃত মালিক বিভাস রঞ্জন দাসের নালিশা অভিযোগ ও পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনায় কমলগঞ্জ থানায় করা মামলা সূত্রে জানা যায়, জেল নং ২৯, মৌজা পরানধর-এর এস.এ ১৬ নং ১৭৬ দাগের খতিয়ানের ১১ শতাংশ, একই জেল ও মৌজার দাগ নং ১২৫ এর ২ শতাংশ ভূমি এবং একই জেল, মৌজার, দাগের ও ১৩নং খতিয়ানের আরও ১১ শতাংশ ভূমির মালিক তিনি (বিভাস রঞ্জন দাস)।

তবে একই গ্রামের সোহেল রানা ওরফে সুমন (২৭) ও তার বাবা জালাল মিয়া (৫০) প্রতারণা করে এ ২৪ শতাংশ ভূমির ভুয়া মালিক ও ভায়া সাজিয়ে গত বছর (২০১৭) ১৩ এপ্রিল একটি জাল দলিল তৈরি করেন।

এমনকি মুন্সীবাজার ইউনিয়ন পরিষদের জাল সনদ, জাল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি রেজিস্টারি করলে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার বাবা জালাল মিয়া নিজের নামে সমূহ ভূমি নামজারি করতে আবেদন করেন। নামজারির আবেদন করলে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে প্রকৃত ভূমির মালিক হিসাবে বিভাস রঞ্জন দাসের নামে শুনানির নোটিশ আসে। তখন তিনি জানতে পারেন জালিয়াতির কথা। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জালিয়াতি করে ২৪ শতাংশ ভূমি রেজিস্টারি করার বিষয়টি টের পেয়ে বিভাস রঞ্জন দাস ১৪ আগস্ট কমলগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। একই সাথে তিনি ১৯ আগস্ট মৌলভীবাজারের ৩নং আমল গ্রহণকারী আদালতে একটি নালিশা আবেদন করেন। এ আবেদনের শুনানি শেষে বিজ্ঞ হাকিম নির্জন কুমার মিত্র সমূহ জাল দলিল জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমলগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

কমলগঞ্জ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোকতাদির হোসেন পিপিএম আদালতের নির্দেশনা পেয়ে ২৪ আগস্ট ধারা ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৩৪ দণ্ডবিধিতে অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার বাবা জালাল মিয়াসহ ৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা রুজু করেন। সাথে সাথে সৃজনকৃত জাল দলিলও জব্দ করেন।

মুন্সীবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব তরফদার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্তরা তার ইউনিয়ন পরিষদের নাম ও স্বাক্ষরিত সনদ ব্যবহার করেছে, তার সবই জাল ছিল। তাই তিনি ১৪ আগস্ট কমলগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

কমলগঞ্জ থানা থেকে সদ্য বদলী হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তাদির হোসেন পিপিএম শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) আদালতের নির্দেশনায় জাল দলিল জব্দ করে কমলগঞ্জ সাব-রেজিস্টারি অফিসের জিম্মায় রাখার ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

এ মামলার আসামি দলিল লিখক আব্দুস সালাম বলেন, সোহেল রানা ও তার বাবা জালাল মিয়া ভূমির মালিক ও ভায়া উপস্থিত করেছেন। এখানে সঠিকভাবে তাদের চেনার কথা নয়। তিনি আরও বলেন, ভূমির ক্রেতারা প্রতারণা করতে পারেন।

তবে এ জালিয়াতি মামলার ১নং অভিযুক্ত সোহেল রানা নিজেকে সঠিক দাবি করে বলেন, ভূমির প্রকৃত মালিক বিভাস রঞ্জন দাসের কাছ থেকেই তিনি ভূমি কিনেছেন। তিনি বা তার বাবা কোন জালিয়াতি করেননি। স্থানীয় একটি চক্র তাদেরকে হেয় করতেই এই অভিযোগ দাড় করিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত