জকিগঞ্জ প্রতিনিধি

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ২৩:২৫

জকিগঞ্জে প্রতিমা বিসর্জনে কুশিয়ারার দুই পাড়ে দুই দেশের মানুষের ঢল

জকিগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর কাস্টমঘাটে বাংলাদেশ ও ভারতের দুইপারে এবারো  প্রতিমা বিসর্জনে মানুষের ঢল নামে। মানুষের মিলন মেলায় পরিনত হয় দুই পারে প্রতিমা বিসর্জন ঘাট। শেষবারের মতো' তেল-সিঁদুর পরিয়ে, চোখের জলে দুর্গতিনাশীনি মা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছে জকিগঞ্জের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

শুক্রবার বিকেলে তিনটা থেকে উপজেলার বিভিন্ন পুজামন্ডপ থেকে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য দেব-দেবীকে শোভাযাত্রাসহ জকিগঞ্জ কাস্টমস্থ প্রতিমা নিরঞ্জন ঘাটে নিয়ে আসা হয়। মেতে ওঠে সীমান্ত ঘেঁষা এ নদীপাড়ের নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ। হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসায় একে একে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে কুশিয়ারা নদীতে বিসর্জন দেয়া হয়।

দেবী দুর্গার বিদায়কে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকা জকিগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর ভারত ও বাংলার দুই তীরের বসেছিলো দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলা। নদীর দুই তীরে জড়ো হন হাজারো পূজারী ভক্ত অনুরাগী, দর্শনার্থী ও শুভার্থীরা। হিন্দু, মুসলিমের পদচারনায় মূখরিত হয়ে উঠে জকিগঞ্জ শহরের কাষ্টমঘাট ও ভারতের কাষ্টমঘাটস্থ অখন্ড মন্ডলী মন্দিরের প্রাঙ্গন। পুজার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে আসেন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ জকিগঞ্জের সর্বস্থরের মানুষ। যেকোন ধরণের নাশকতা এড়াতে পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল, আনসার সদস্যরা ছিল সর্তক অবস্থায়। লক্ষ করা গেছে ভারতের করিমগঞ্জেও আইন শৃংখলা বাহিনী ছিলো সর্তক অবস্থায়। ঢাকঢোল, কাসর, করতাল, মন্দিরা, বাশি এবং শঙ্খ’র ধ্বনিতে মূখরিত হয় গোটা এলাকা। মর্তলোক থেকে কৈলাশে দেবীকে বিদায় জানাতে নেচে গেয়ে মাতোয়ারা হন ভক্তরা। ভক্তরা সেজেছিলেন উৎসবের বর্ণিল রঙে। কুশিয়ারা নদীর উভয় পারের প্র্রতিমা বিসর্জনে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এ উৎসব চলে আসছে ভারত ও বাংলাদেশের কুশিয়ারা নদীর দুই তীর এমন ভাবেই।

এদিকে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে কাস্টমঘাটে উপজেলা পূজা পরিষদের সভাপতি সঞ্জয় চন্দ্র নাথের সভাপতিত্বে ও পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় বিশ্বাসের সঞ্চালনায় এক অনুষ্টান মঞ্চে ভক্ত অনুরাগী, দর্শনার্থী ও শুভার্থীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ড. আহমদ আল কবির, সিলেট বিভাগীয় আইনজীবি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোস্তাক আহমদ, জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ, জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন কুমার সিংহ, জকিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী খলিল উদ্দিন, জকিগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি লোকমান উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাকিম হায়দর, মহিলা আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও জেলা পরিষদের সদস্য সাজনা সুলতানা হক চৌধুরী, জকিগঞ্জ প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত পাল, পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি হাজী সামছ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন সুহেল, জেলা পুজা পরিষদের সদস্য জ্যোতিষ চন্দ্র পাল, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের আহবায়ক বিভাকর দেশমূখ্য, যুগ্ম আহবায়ক অপূর্ব পাল প্রমূখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত