২৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ ২০:২৭
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করলেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভরসা বিএনপি সমর্থকদের ভোট। দিরাইয়ের রাজনীতি দীর্ঘদিন যাবত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে কেন্দ্র করে চলছে।
দিরাই আওয়ামী লীগে সুরঞ্জিত গ্রুপ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর গ্রুপ নামে দুটি গ্রুপ রয়েছে। উভয় গ্রুপে দুজন করে প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ চারভাগে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালালেও বিএনপি নেতা কর্মীরা কোন প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেননি। ভোটের মাঠে এখন আওয়ামী লীগ বিদ্রোহীরা বিএনপির ভোটের দিকেই থাকিয়ে আছেন।
গত জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট নৌকার বিপক্ষে যায়নি। এ নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুজন প্রার্থী থাকায় হিন্দু ভোটারদের মধ্যেও বিভক্তি হতে পারে।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দিরাই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত গ্রুপের নৌকা প্রতীকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়, বিদ্রোহী হয়েছেন একই গ্রুপের দিরাই উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন রায় ঘোড়া প্রতীকে। সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান গ্রুপের দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলতাব উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন আনারস প্রতীকে একই গ্রুপের সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মঞ্জুর আলম চৌধুরী বিদ্রোহী হয়েছেন মটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে।
২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দিরাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হন। এর ফল হিসেবে দেশে আলোচিত নেতা ছিলেন নাছির উদ্দিন চৌধুরী। উপজেলা চেয়ারম্যান দায়িত্বের শেষ দিকে এসে আওয়ামী লীগে যোগ দেন, দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে নির্বাচনে আসেননি ভাইস চেয়ারম্যান গোলাপ মিয়া। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছে উপজেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছবি চৌধুরী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়ায় বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার নির্বাচনে আসেননি।
২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান গ্রুপের নৌকার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেয় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত গ্রুপ। তাতে উপজেলার রফিনগর, ভাটিপাড়া ও জগদল ইউনিয়নে নৌকার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়। এর প্রভাব পড়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। মতিউর রহমান গ্রুপের সকল প্রার্থী এক হয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহধর্মীনি জয় সেনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি তুলেন তাতে ফল হয়নি।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আবারো সেই পুরনো চিত্র দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনের দৌড়ে নৌকা, মটর সাইকেল, ঘোড়া এগিয়ে থাকলেও ভোটের মাঠে এগিয়ে রয়েছে আনারস জানিয়েছেন ভোটাররা। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় নির্বাচনী মাঠে ভোটের আমেজ নেই। চার জনই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি সমর্থিত ভোটাররা নির্বাচনী কার্যক্রমে নেই। ফলে জমে উঠছে না নির্বাচনী প্রচারণা। দিরাইয়ে ভোটের লড়াইয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোট একটি বিষয়। এ বছর হিন্দু সম্প্রদায়ের দুজন প্রার্থী থাকায় সুবিধা নিতে পারেন মুসলিম কোন প্রার্থী।
দিরাই উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাপ মিয়া জানান, বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছে তাই তাদের পছন্দেও কোন প্রার্থী নেই। এখানে আওয়ামী লীগের চার জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে আছেন তারা তারাই ভোট গাইবেন। আমার জানা মতে বিএনপি কাউকে সমর্থন দেবে না।
আপনার মন্তব্য