২৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ ২৩:৫১
উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মার্চ গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসলেও এ নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো উৎসাহ-উদ্দীপনা বা আমেজ নেই। প্রার্থীরাও ভোট চাইতে গিয়ে তেমন সাড়া পাচ্ছেন না। বরং প্রার্থীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করছেন। এ যেন মনোনয়ন প্রত্যাহারের হিড়িক শুরু হয়েছে।
গোলাপগঞ্জে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩জন প্রার্থী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বুধবার রিটার্নিং কর্মকর্তা খুরশেদ আলমের কাছ থেকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ১জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীরা হলেন- চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য আব্দুল ওহাব জোয়ারদার মছুফ, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী, গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুস সামাদ জিলু, উপজেলা আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক, বুধবারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শরফ উদ্দিন।
এর আগে গত মঙ্গলবার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য আব্দুল ওহাব জোয়ারদার মছুফ গত মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামীলীগ প্রার্থী এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরীকে সমর্থন জানিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
এ ব্যাপারে আব্দুল ওহাব বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি, আমার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোলাপগঞ্জের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ইকবাল আহমদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছেন। কিন্তু, তৃণমূল নেতাকর্মীদের অব্যাহত সমর্থন ও চাপে আমি সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে বাধ্য হই। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরীকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান তিনি।
একই দিন রাতে গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুস সামাদ জিলু সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
আব্দুস সামাদ জিলু বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেশ কয়েকজন দলীয় নেতাকর্মী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।এসব বিষয় বিবেচনা করে এবং চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনীত প্রার্থী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরীর পক্ষে সক্রিয় ভাবে কাজ করতে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এছাড়াও এইদিন উপজেলার বুধবারীবাজারে এক সভায় ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক, বুধবারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শরফ উদ্দিনও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
এ ব্যাপারে শরফ উদ্দিন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীনকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, আমরা চাই গোলাপগঞ্জের উন্নয়ন। যার মাধ্যমে এ এলাকার উন্নয়ন হবে আমরা তাকেই সমর্থন দেব। তিনক উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলাবাসীর সমর্থন, দোয়া ও ভালাবাসা প্রত্যাশা করেন।
এদিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে ৬জন ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩জন জমা মনোনয়ন জমা দিলে তাদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে গত বুধবার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, ইসলামী ঐক্যজোট প্রার্থীসহ ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থী, ২ জন ভাইস চেয়ারম্যান, ১ জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। পরে এই ৬ প্রার্থীর মধ্যে আপিলে ৫ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং চেয়ারম্যান প্রার্থী কবির আহমদের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এদিকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে
৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় ভোটের মাঠে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী, ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী জহির আহমদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট মাওলানা রশিদ আহমদ। ভাইস চেয়ারম্যান গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি আব্দুল আহাদ, সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক মনসুর আহমদ, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন রিপন, যুবলীগ নেতা শাহিন আহমদ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সিলেট মহানগর যুব মহিলা লীগের সভাপতি, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজিরা বেগম শীলা, মাছুমা সিদ্দিকা ও নার্গিস পারভীন।
উল্লেখ্য, প্রবাসী অধ্যুষিত গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ জনসংখ্যার মধ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ২লক্ষ ২২হাজার ৫শত জন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপে গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ভোট গ্রহণ হবে ১৮ মার্চ।
আপনার মন্তব্য