১৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৭:০৭
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের শতবর্ষী বৃক্ষসহ ৬ হাজার গাছ কর্তনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চাউতলী এলাকায় উপরকারভোগির নামে কর্তন করার নিমিত্তে বনবিভাগ শতবর্ষী বৃক্ষসহ ৬ হাজার গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টায় শ্রীমঙ্গল চৌমুহনা এলাকায় লাউয়াছড়া জীব বৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলন কমিটির ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
লাউয়াছড়া জীব বৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলনের আহবায়ক জলি পালের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সদস্য সচিব প্রিতম দাশের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহসভাপতি দ্বীপেন্দ্র ভট্টাচার্য, সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আমিরুজ্জামান, বাংলাদেশ পরিবেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম, লাউয়াছড়া জীববৈচিত্র রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক কাজী সামছুল হক, মৌলভীবাজার পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সৈয়দ মহসিন পারভেজ, কবি জাবেদ ভুঁইয়া, মানববন্ধনের সঞ্চালনা ছিলেন লাউয়াছড়া জীব বৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলনের সদস্য প্রিতম দাশ প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কোনও অবস্থাতেই লাউয়াছড়া রেইন ফরেস্টকে ধ্বংশ করতে দেয়া হবে না। বনের ভিতর সামাজিক বনায়নের দোহাই দিয়ে গাছ কাটা হয়। প্রতিনিয়তই বনের ভিতরে বন বিধ্বংসী কাজ করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। চাউতলী বিটে যে গাছগুলোকে কাটার জন্য মার্কিং করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে চাপালিশ, বহেরা, ডুমুর, হরীতকী, আমলকী, জারুল, রিঠা, ডেউয়া, লটকন, কাঠবাদাম, লুকলুকি, কাউফল, বন উরি, কাঁটাজামসহ অর্ধশতাধিক ফল গাছ। যার ওপর নির্ভরশীল বন্য প্রাণী। এসব গাছ কাটলে প্রাণীরা কোথায় যাবে।
বক্তারা বলেন, বন বিভাগ এখনো সেই গাছগুলো থেকে নাম্বার মুছেনি। এর আগে বাংলাদেশ রেলওয়ে রেললাইনের পাশের লাউয়াছড়ার প্রায় ২৫ হাজার গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। পরিবেশবাদীদের আন্দোলনের মুখে তখন তা বাতিল করা হয়। আর যদি লাউয়াছড়ার গাছ কাটার উদ্যোগ নেয়া হয় আমরা রাস্তায় আন্দোলনে নামবো।
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয় আন্দোলনকারীরা।
আপনার মন্তব্য