হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

১৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৭:৫২

বানিয়াচংয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচংয়ের পল্লীতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে কামাল মিয়া (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বজনদের বিরুদ্ধে।

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত কামাল মিয়া উপজেলার হরিপুর গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে।

সোমবার রাতে কামাল মিয়ার ক্ষত-বিক্ষত লাশ নিয়ে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে আসেন দুই নারী। একজন নিহত কামাল মিয়ার মা ও অপরজন খালা বলে দাবি করেন। পরে দুই নারী লাশ রেখে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে থেকে পালিয়ে যান।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হরিপুর গ্রামের বজলু মিয়ার ছেলে ফজল মিয়ার সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল একই গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে সালমান মিয়ার। গত ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে সালমান মিয়ার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে ফজল মিয়ার বুকে আঘাত করেন। গুরুত্বর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় গত ১০ নভেম্বর নিহত ফজল মিয়ার বাবা বজলু মিয়া বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে বানিয়াচং থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় সালমান মিয়াসহ দুইজন এখনও জেলে রয়েছেন। বাকিরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন।

এদিকে সোমবার ফজল মিয়া হত্যা মামলার ১২ নাম্বার আসামী ওই গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে কামাল মিয়ার ক্ষত-বিক্ষত লাশ নিয়ে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে আসেন দুই নারী। একজন নিহত কামল মিয়ার মা ও অপরজন খালা বলে দাবি করেন।

এ সময় দুই নারী জানান, সোমবার কামাল মিয়াসহ তিনজন হাওড়ে একটি খাল সেচে মাছ ধরতে যান। এ সময় কয়েকজন লোক দেশিয় অস্ত্র দিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই কামাল মিয়া নিহত হন। তবে সাথে থাকা দুইজন পালিয়ে যান। এ সময় হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের বাঁধা প্রদান করেন।

খবর পেয়ে সোমবার রাতেই সদর হাসপাতালে যান সহকারী পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) শেখ সেলিম। এ সময় কৌশলে ওই দুই নারী হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সারা হাসপাতাল খোঁজেও কাউকে পাননি পুলিশ সুপার।

এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) শেখ সেলিম বলেন- ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। হাসপাতালে নিহতের স্বজনদের কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে মামলা করা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


 



আপনার মন্তব্য

আলোচিত