মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৫০

‘ওই মহামানব আসে’, মৌলভীবাজারে রবীন্দ্রস্মরণ

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সিলেট ভ্রমণের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে “ওই মহামানব আসে” শীর্ষক রবীন্দ্রস্মরণ।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের আয়োজনে মিলিত হয়েছিলেন রবীন্দ্রপ্রেমীরা। প্রদীপ প্রজ্বলনে আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে গানের সাথে, প্রাপ্ত প্রীতমের পরিচালনায় উদ্বোধনী নৃত্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। নৃত্যে আরও ছিলেন ঈশিতা, দেবযানী, শতাব্দী, বিদ্যা এবং মৌ।

প্রদীপ প্রজ্বলন করেন প্রধান আলোচক ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, দীপঙ্কর মোহান্ত, দিলশাদ পারভীন, সৈয়দ সলমান আলী, ড. অনুপম কুমার পাল, প্রফেসর আব্দুল খালিক, আবদুল মতিন, সুপ্রিয়া মিশ্র প্রমুখ।

সিলেটে রবীন্দ্রনাথ: শিল্প-সমাজ-সংস্কৃতি বিকাশে নবচেতনার উন্মেষ শীর্ষক আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ মৌলভীবাজারের সভাপতি ডা. দিলশাদ পারভীন চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক অরুণ কুমার দাশ।

আলোচনা পর্বে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রবীন্দ্র গবেষক ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ। তিনি সিলেটে রবীন্দ্রনাথ এবং শিল্প-সমাজ-সংস্কৃতি বিকাশে বিশ্বকবির অবদান নিয়ে বক্তব্য দেন। স্বল্প সময়ের বক্তৃতায় তুলে ধরেন উপমহাদেশে অগ্রসর সমাজ ও সংস্কৃতি বিনির্মাণের অগ্রমানুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। অপর আলোচক প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক দীপঙ্কর মোহান্ত মৌলভীবাজারের সাথে রবীন্দ্রনাথের যোগসাজশ ও অবদান নিয়ে বক্তব্য দেন।

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে তৃপ্তি চক্রবর্তীর পরিচালনায় ‘ওই মহামানব আসে’ শীর্ষক সংগীত পর্বে বাজে বাজে রম্যবীণা গানের সাথে নৃত্য দিয়ে অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয়। যা দর্শকদের বিমোহিত করে।

এরপর একে একে ওই মহামানব আসে, ও যে মানে না মানা, জাগরণে যায় বিভাবরী, সুখহীন নিশিদিন, সখি ভাবনা কাহারে বলে, প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে, আমি কান পেতে রই, বিশ্ব সাথে যোগে যেথায়, ঝড়ে যায় উড়ে যায় গো, আসা যাওয়ার পথের ধারে, গানের ভেলায় বেলা অবেলায়, আমার হিয়ার মাঝে, সুন্দর বটে তব গানগুলি; একক, দ্বৈতকণ্ঠে এবং কোরাস পরিবেশন করেন জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, মৌলভীবাজারের শিল্পীরা। গানে অংশ নেন মানসী চক্রবর্তী, স্বর্ণালী দাশ টুম্পা, উপমা উর্বশী, মনশ্রী দেব জুঁই, সুপ্রিয়া মিশ্র, রাখী রায়, মাধুরী রায়, ডোরা প্রেন্টিস, প্রিয়তা চৌধুরী মনি, মমিতা সিনহা, প্রিয়াঙ্কা ঘোষ তুষ্টি, প্রিয়াঙ্কা রায়, জেবিন চৌধুরী, সমীরণ দেব শুভ্র, দিব্য সিংহ চৌধুরী, কাব্য সিংহ চৌধুরী, অসীম কুমার দাশ অন্তু, কাব্য ভট্টাচার্য , পার্থ সারথি কর, রুহিত রায়, প্রত্যুষ তালুকদার, অঞ্জন কুমার দাশ, অনিমেষ চৌধুরী, অরুণ কুমার দাশ ও সৈয়দ মুনিম আহমেদ রিমন। নৃত্যের তালে তালে গানে নৃত্য দিয়ে শাখার শিল্পীদের পরিবেশনা শেষ হয়। যা দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালিতে এক অসাধারণ পরিবেশের সৃষ্টি করে।

বিশেষ সংগীত পর্বে গান গেয়েছেন আনন্দলোক, সিলেটের পরিচালক রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী রানা কুমার সিনহা। তিনি তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা, মেঘ বলেছে যাবো যাবো গানগুলি পরিবেশন করেন।

সুর সাধনা মৌলভীবাজারের অধ্যক্ষ তৃপ্তি চক্রবর্তী গাইলেন মনমোহন গহন যামিনী শেষে, সেই ভাল সেই ভাল। জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য প্রতীক এন্দ গাইলেন দুটি গান- তুই ফেলে এসেছিস কারে ও এই তো তোমার প্রেম। ঢাকার রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ড. অনুপম কুমার পাল পুরানো সেই দিনের কথা, আমরা সবাই রাজা -গান দুটি পরিবেশন করেন ।

গীতবিতান, বাংলাদেশের পরিচালক অনিমেষ বিজয় চৌধুরীর গাওয়া আমি তোমার প্রেমে হবো, ওকে ধরিলে ধরা দেবে না গান দুটি দর্শকদের বিমোহিত করে রাখে। সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শিল্পীদের পরিবেশনা দেখতে হলভর্তি দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ভালবাসা জানালেন আমন্ত্রিত শিল্পীরা।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ইবেতেসাম নওশীন পারিসা এবং উপমা উর্বশী।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অরুণ কুমার দাশ বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের গানে দর্শক এতক্ষণ বসেছিলেন, এটা অবশ্যই ভাললাগা, ভালবাসার বিষয়। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সমাপ্তি হয় ভাললাগার সন্ধ্যাটি। রবীন্দ্রপ্রেমীরা দীর্ঘদিন রবীন্দ্রসন্ধ্যাটুকু মনে রাখবেন এটা বলাই যায়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত