২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৮:১৫
সারা দেশের ন্যায় সুনামগঞ্জেও নদী, খাল, ছড়া, হাওরসহ অন্যান্য জলাধার তীরবর্তী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী সুনামগঞ্জের প্রাথমিক তালিকায় থাকা ২৪৮টি নদী ও খাল তীরবর্তী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) থেকে সারাদেশে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ২৬টি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৪০টি, ছাতক উপজেলায় ১৩টি, জামালগঞ্জ উপজেলায় ২৫টি, ধর্মপাশা উপজেলায় ৩০টি, জগন্নাথপুর উপজেলায় ৬০টি এবং তাহিরপুর উপজেলায় ৬৪টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৯টি অবৈধ স্থাপনার মধ্যে ২টি নদী তীরবর্তী বসতঘর হওয়ায় তাদেরকে কয়েকদিনের সময় প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।
অভিযান পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক এমরান হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোখলেছুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইটি) হারুনুর রশিদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন নাহার রুমা, সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কাজী শামসুল হুদা সোহেল, তহসিলদার কামাল হোসেন, সাব্বির আহমদ প্রমুখ।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, নদী তীরবর্তী অবৈধ স্থাপনা তৈরিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের প্রধান নদীগুলো। দিন দিন নদী জায়গা দখল করে পানি স্বাভাবিক যে প্রবাহ রয়েছে তাতে বাঁধা প্রদান করা হচ্ছে। এই অভিযানের মাধ্যমে আমরা নদী-খাল বিল তীরবর্তী সকল অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলা হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, সারাদেশের ন্যায় একযুগে আজকে থেকে নদী, খাল, বিল তীরবর্তী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। সুনামগঞ্জের সকল উপজেলায় চলছে এই নদী তীরবর্তী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান। যেহেতু আজকে থেকে অভিযান শুরু হয়েছে তাই পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হবে। সময় কতদিন লাগবে তা সঠিক জানা নেই, কিন্তু একটি অবৈধ স্থাপনাও যদি থাকে তাও আমরা উচ্ছেদ করবো।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারাদেশের জলাধারের পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন এই উচ্ছেদ অভিযান এখন থেকে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। পর্যায়ক্রমে নদ নদী খাল বিল ও জলাধারের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে গড়ে তোলা স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মন্তব্য