২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৮:৩৫
পৌষ মাস শুরু হতেই সিলেটেসহ সারা দেশে ঝেঁকে বসেছে শীত। আর ক্রমশ বাড়ছে শীতের তীব্রতা। ঠান্ডার মধ্যে নাজেহাল অবস্থায় পড়তে হচ্ছে শিশু-বৃদ্ধসহ কর্মমুখী সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে কষ্টের মধ্যে দিন যাচ্ছে ফুটপাতের গরীব মানুষদের। আবার কেউ কেউ আগুন জালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
আবহাওয়া অফিস বলছে, শৈত্যপ্রবাহ আরো দু’-তিন বিদ্যমান থাকবে। একই সঙ্গে ২৫ থেকে ২৬ তারিখের দিকে সিলেটে এক মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন ১৩.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
এদিকে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে কানাইঘাটের গ্রামীণ জনপদে। গত কয়েকদিন থেকে তীব্র শীত ও কুয়াশা এবং কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসে গোটা উপজেলার কোথাও সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে গোটা কানাইঘাট উপজেলা। সেই সাথে হিমেল হাওয়া বইতে থাকে। হঠাৎ করে শীত শুরু হওয়ায় জনসাধারণ চরম বিপাকে পড়েছেন। রাতে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। শীতের তীব্রতা বাড়ায় বিভিন্ন ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। এর মধ্যে নিউমোনিয়া, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, টনসিলাসাইটিস, সংক্রামক, সাইনোসাইটিস ছাড়াও সর্দি, জ্বর কাশিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন কানাইঘাটের মানুষ। ফলে দুর্ভোগে রয়েছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ গ্রামীণ চিকিৎসাকেন্দ্র সমূহে রোগীদের উপচেপড়া ভিড় চোখে পড়ার মত। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যাই বেশি লক্ষ্য করা গেছে। কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর সাথে কথা বললে তারা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে এবার প্রচণ্ড ঠাণ্ডা যা পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমানে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে অনেক শিশু।
এ ব্যাপারে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: শেখ শরফুদ্দিন নাহিদ বলেন, প্রতিদিনই রোগীদের শঙ্কা বাড়ছে। চিকিৎসকেরা রোগীদের সামাল দিতে নিয়মিত হিমশিম খাচ্ছেন। বেশিভাগই ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সংক্রামক রোগীর সংখ্যা। বছরের শেষ সময় থাকায় হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঔষধ মজুদ নেই।
আপনার মন্তব্য