২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২০:৫০
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেছেন, ‘আমাদের দেশে ছোট-বড় প্রতিটি নদীর রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। নদীর সাথে জড়িত আছে অগণিত মানুষের জীবন-জীবিকা। প্রাণ, পরিবেশ, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্রের অস্তিত্ব পুরোপুরি নদীর উপর নির্ভরশীল। নদী রক্ষায় দেশে অনেক আইন রয়েছে। তাই নদী বাঁচাতে শুধু আইন নয়, জনগণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। তাই মানুষ জেগে না উঠলে কোন ভাবেই নদীকে বাঁচানো সম্ভব নয়।’
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সারী নদীর তীরে ’সারী নদী বাঁচাও আন্দোলন’ এ সমাবেশে বাপা’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল ’জাগো মানুষ জাগো’ শীর্ষক এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন।
সারি নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আব্দুল হাই আল-হাদীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মনোজ কুমার সেন। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাপা’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল করিম কিম, খোয়াই রিভার ওয়াটার কিপার ও বাপা’ হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জেল সোহেল, ফকির সোহেল, জাকির হোসেন, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ গোলাম সরওয়ার বেলাল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান কবির খান, বালু ব্যবসায়ী মাওলানা আব্দুস সোবহান, ফটোসাংবাদিক হোসেন মিয়া, সাংবাদিক শোয়েব উদ্দিন প্রমুখ।
শরীফ জামিল আরও বলেন, নদীর মালিক কোন ব্যক্তি, সংগঠন বা শ্রেণি নয়। নদী সবার। নদীর পানি এককভাবে কোন দেশ প্রত্যাহার করতে পারেনা। এটা আর্ন্তজাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সারি নদীর উজানে জলবিদ্যুতের জন্য ‘লেসকা’ বাঁধ দিয়ে ভারত সে আইনকে সুস্পষ্ট ভাবে লঙ্ঘন করেছে। তাই সে বাঁধ অবিলম্বে অপসারণ করার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান। একই সাথে তিনি স্থানীয় জনগণকে এ ব্যাপারে আরও প্রতিবাদী ও সচেতন হওয়ার অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, নদী তীরের মানুষদের জাগরণ ছাড়া নদী রক্ষা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। স্থানীয় মানুষ জেগে উঠলে নদীকে কেউই দখল, দূষণ ও ভরাট করতে পারবেনা। যেকোন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিবেশকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি সুবিধাভোগীদের মতামত নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
আব্দুল করিম কিম বলেন, রাতারগুল, দামারি, বুজিরবন, বড়জুরি, জুগিরকান্দি সহ অইেশ গুলো জলারবনের অস্তিত্ব সরাসরি নদীর সাথে জড়িত। তাই এসব বনকে বাঁচাতে ও জীববৈচিত্র রক্ষার জন্য নদীকে বাঁচাতে হবে সবার আগে।
তোফাজ্জেল সোহেল বলেন, পরিবেশকর্মীরা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরোধী নয় বরং সহযোগী। পরিবেশ বিনাশী যেকোন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই ’উন্নয়নবিরোধী’ তকমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরিবেশকর্মীরা দেশপ্রেম ও মানবিক তাগিদ থেকেই লড়াই করে যাচ্ছেন। তাই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিবেশবাদীদের মতামত গ্রহণ করলে সেটি আরও টেকসই হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য নুর আহমদ, শ্রমিকনেতা মাসুক আহমেদ, আব্দুস সালাম, ব্যবসায়ী শরীফ আহমদ, আব্দুল্লা আল জুবের, কুতুব উদ্দিন, আব্দুর রহমান, বেলাল আহমদ প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য