০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২০:১৪
বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে রপ্তানি হওয়া দেড় শতাধিক সুপারির ট্রাক প্রায় দুই মাস ধরে আটকে রয়েছে। দীর্ঘ এই অচলাবস্থার ফলে রপ্তানিকারকদের প্রতিদিন ট্রাকপ্রতি দুই হাজার টাকা হিসেবে প্রায় তিন লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড বা ভাড়া গুণতে হচ্ছে, যা বাণিজ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে পণ্যের মান নির্ণয়কে কেন্দ্র করে তৈরি করা নানা জটিলতার কারণেই রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সমস্যা সমাধান না হলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
বাংলাদেশ বিশ্বে সুপারি উৎপাদনে দ্বিতীয় এবং গুণগত মানে ভারতের বাজারে এর চাহিদা দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ। প্রতিবছর প্রায় ৭০০ কোটি টাকার সুপারি শুধু ভারতেই রপ্তানি হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ভারতের সুপারি আমদানিতে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বেড়ে হয়েছে ৩৭ শতাংশ, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় চার গুণ।
এত ইতিবাচক বাণিজ্যিক পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও বেনাপোলে দেড় শতাধিক ট্রাক দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় পণ্যজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে ট্রাকচালকদেরও নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
আটকে থাকা ট্রাকচালক মমিন বলেন, “এক মাস ২৭ দিন ধরে এখানে আটকে আছি। ওপারের ব্যবসায়ীরা বাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট করে ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রাক দেরি করাচ্ছে—এ নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।”
রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আউলিয়া এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম বলেন, “পেট্রাপোল বন্দরে পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ নানা অজুহাতে পণ্য নিতে দেরি করা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।”
ব্যবসায়ীরা আরও জানায়, গত বছরের ৫ আগস্ট সরকারের পরিবর্তনের পর ভারত একাধিক নিষেধাজ্ঞা এবং শর্ত আরোপ করায় রপ্তানি পরিমাণ ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. শামীম হোসেন বলেন, “অচলাবস্থায় বেনাপোলে প্রায় ১০০ কোটি টাকার দেড় শতাধিক সুপারির ট্রাক আটকে আছে। প্রতিদিন রপ্তানিকারকদের তিন লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে।”
অন্যদিকে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি দুই দেশেরই ক্ষতি ডেকে আনে। দ্রুত সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে পাট, গার্মেন্টস, কাঠের আসবাবসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্য রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে বন্দর সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক আবু তালহা জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বেনাপোল দিয়ে ১০ হাজার ৬৫০ টন সুপারি ভারত গিয়েছে। তাঁর মতে, যে সমস্যা নিয়ে ট্রাক আটকে রয়েছে সেটা ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। “কাগজপত্র ঠিক থাকলে আমাদের কাছে যেসব ট্রাক আসে, সেগুলো নিষ্কণ্টকভাবে ভারতের উদ্দেশ্যে ছাড় দেওয়া হচ্ছে,” বলেন তিনি।
আপনার মন্তব্য