Advertise

সিলেটটুডে ডেস্ক

২২ নভেম্বর, ২০১৭ ১৪:১৭

রূপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: ফের পেছালো অভিযোগ গঠনের দিন

আসামিপক্ষের সময় আবেদন মঞ্জুর করায় মধুপুরে চলন্ত বাসে ঢাকার আইডিয়াল ‘ল’ কলেজের শিক্ষার্থী রূপা খাতুনকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গঠনের শুনানি হয়নি। এনিয়ে অভিযোগ গঠনের দিন তৃতীয় দফায় পেছানো হলো।

বুধবার (২২ নভেম্বর) টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও আসামি পক্ষের আইনজীবীর করা সময়ের আবেদনে ২৯ নভেম্বর এর আগামী দিন ধার্য করা হয়েছে। বেলা ১২টায় এ দিন ধার্য করেন আদালতের বিচারক মো. আব্দুল মান্নান।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিশেষ পিপি একেএম মো. নাছিমুল আখতার জানান, মামলাটির অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. আব্দুল মান্নান। বুধবার অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য থাকলেও আগামী ২৯ নভেম্বর ধার্য করেছেন আদালতের বিচারক।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সহায়তায় আছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার টাঙ্গাইল জেলার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ। আসামি পক্ষের আইনজীবী শামীম চৌধুরী দয়াল ও ঢাকা জর্জ কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. দেলোয়ার হোসেন।

এর আগে ১৩ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ ধার্য ছিল। কিন্তু বিচারক ছুটিতে থাকায় সেদিনও শুনানি হয়নি।

কারাগারে আটক এই মামলার আসামি পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫) এবং সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) আদালতে হাজির করা হয়।

১৫ অক্টোবর পুলিশ বিচারিক হাকিম আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরদিন ১৬ অক্টোবর বিচারিক হাকিম আদালত থেকে বিচারিক আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপা খাতুনকে চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্ষণ করে। পরে তাকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। পুলিশ ওই রাতেই তার মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করে।

রূপার ভাই ২৮ আগস্ট মধুপুর থানায় এসে মরদেহের ছবি দেখে তার বোন বলে  শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫) এবং সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) গ্রেফতার করে। পুলিশের কাছে তারা রূপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে। ২৯ আগস্ট বাসের তিন সহকারী শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর এবং ৩০ আগস্ট চালক হাবিবুর এবং সুপারভাইজার সফর আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তারা সবাই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে আছে। ৩১ আগস্ট রূপার মরদেহ উত্তোলন করে তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রূপাকে সিরাজগঞ্জের তারাশ উপজেলার নিজ গ্রাম আসানবাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত